৯ পুলিশ সদস্যের মধ্যে জেলা পুলিশের তিন ও শিল্প পুলিশের ছয়জন; সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুর
মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে জেলা পুলিশের তিন ও শিল্প পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়েছেন দুই শ্রমিকও।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিবু মার্কেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তাঁরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন। অবরোধের কারণে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও দুপুরের পর শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মধ্যাহ্নবিরতির পর কাঠের পুল এলাকার আবির ফ্যাশনের শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার বাইরে জড়ো হন। একপর্যায়ে পাশের মাইক্রো ফাইবার কারখানার শ্রমিকেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। পরে মেট্রো নিটওয়্যার ও আজাদ নিট কম্পোজিটসহ পুলিশ লাইনস এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা আন্দোলনে যুক্ত হন।
বেলা আড়াইটার দিকে শ্রমিকেরা কাঠের পুল থেকে মিছিল নিয়ে শিবু মার্কেটের দিকে অগ্রসর হন। পুলিশ প্রধান সড়কের প্রবেশমুখে বাধা দিলেও শ্রমিকেরা ব্যারিকেড ভেঙে মূল সড়কে প্রবেশ করেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে শ্রমিকেরা লাঠি হাতে শিবু মার্কেট থেকে জালকুড়ির দিকে এগিয়ে যান। এ সময় সড়কে পুলিশের সাঁজোয়া যানের কাছে পড়ে থাকা ঝুটে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করেন তাঁরা। বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) হাসিনুজ্জামান বলেন, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে প্রথমে তাঁদের বুঝিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে তাঁরা সড়কে অগ্নিসংযোগ ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু করলে বিকেল ৫টার দিকে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। শ্রমিকদের ইটের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, সংঘর্ষে জেলা পুলিশের তিনজন এবং শিল্প পুলিশের ছয়জন সদস্য আহত হয়েছেন।
শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক