পানিবন্দি প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ, বন্ধ হয়ে পড়েছে পানি নিষ্কাশনের পথ
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে প্রায় পাঁচ হাজার বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে আছে। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও বসতবাড়ির আঙিনা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আগরপুর, ক্ষুদ্র সিমলা, কালিকাপুর, খেইসর ও জালশুকা গ্রামের পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আগরপুর গ্রামের আদাচড়ি এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কালভার্টের মুখ বন্ধ থাকায় চার গ্রামের পানি আটকে রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খালের জায়গা দখল করে এবং ব্রিজ ও কালভার্টের মুখ বন্ধ করে পুকুর খননের অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সরেজমিনের বর্ণনা অনুযায়ী, পাঁচ গ্রামের মসজিদে যাওয়ার রাস্তা, বসতবাড়ির আঙিনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও গ্রামীণ পথঘাট পানিতে ডুবে আছে। শিশুদের স্কুলে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন নিয়েও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বদ্ধ পানিতে চলাচলের কারণে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। স্থানীয়দের দাবি, একসময় এসব জমিতে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ মণ বোরো ধান উৎপাদিত হতো। কিন্তু টানা কয়েক বছর জলাবদ্ধতার কারণে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে শতাধিক কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকের মাটির দেয়ালের বাড়ি দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় ভেঙে পড়েছে; কোনো কোনো বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর তাঁদের বিঘার পর বিঘা জমি পানির নিচে পড়ে আছে। প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনো পথ থাকবে না।
ভুক্তভোগীরা জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হয়েছে। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওজেস আলী নায়েব কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত একটি বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে অতিদ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় ভুক্তভোগী, রামকৃষ্ণপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক