বিদ্যুৎ-গ্যাসের বিকল্প হতে পারে সৌরচুলা, সূর্যের আলোতেই হবে রান্না

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭ রাত
  • ৩০৫৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
১২ ও ২৪ ভোল্টের সোলার কুকার নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ, দাম ৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের মধ্যে রান্নার বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করছে সৌরশক্তিচালিত কুকার। প্রচলিত বিদ্যুৎ বা গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সূর্যের আলো ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে এসব যন্ত্রে রান্না করা সম্ভব। বাজারে ১২ ও ২৪ ভোল্টের ডিসি কুকার, সোলার রাইস কুকার এবং সরাসরি সূর্যের তাপে রান্নার বিভিন্ন প্রযুক্তি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব যন্ত্র কেনার আগে কার্যপদ্ধতি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সম্পর্কে জানা জরুরি।

দুই ধরনের সৌরচুলা

সৌরশক্তিচালিত রান্নার যন্ত্র মূলত দুই ধরনের। প্রথমটি সৌরবিদ্যুতে চালিত ইলেকট্রিক কুকার। এতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি অথবা ব্যাটারিতে সংরক্ষণ করে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। বিশেষভাবে তৈরি ১২ ও ২৪ ভোল্টের ডিসি রাইস কুকার, হিটিং পট ও মাল্টি কুকার এ প্রযুক্তির আওতায় পড়ে।

দ্বিতীয় ধরনের কুকারে বিদ্যুৎ ছাড়াই সূর্যের তাপ ব্যবহার করে রান্না করা হয়। এসব যন্ত্রে প্রতিফলক আয়না কিংবা বিশেষ সৌর টিউবের সাহায্যে সূর্যের আলো ও তাপ একটি নির্দিষ্ট স্থানে কেন্দ্রীভূত করা হয়। এতে ব্যাটারি বা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয় না। তবে কার্যকরভাবে রান্নার জন্য পর্যাপ্ত রোদ থাকা জরুরি।

বাংলাদেশে দাম ও প্রাপ্যতা

দেশের বিভিন্ন অনলাইন শপ ও দারাজের মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সৌরশক্তিচালিত কুকার ও মাল্টি কুকার পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত বাজারতথ্য অনুযায়ী, শুধু চুলার দাম ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, বিভিন্ন প্যাকেজের দাম ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তবে প্যাকেজভেদে পণ্যের উপকরণ ও সুবিধায় পার্থক্য রয়েছে। কোনো প্যাকেজে শুধু কুকার, আবার কোনো প্যাকেজে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, উপযোগী হাঁড়ি-পাতিলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকতে পারে। তাই কেনার আগে প্যাকেজের উপকরণ, পণ্যের মজুত, ওয়ারেন্টি ও ভোল্টেজ সম্পর্কে বিক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

যেভাবে কাজ করে সোলার রাইস কুকার

সোলার রাইস কুকার চালাতে সাধারণত সোলার প্যানেল, এমপিপিটি চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির সমন্বয়ে একটি ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। প্রথমে সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ চার্জ কন্ট্রোলারের মাধ্যমে ব্যাটারিতে জমা হয়। পরে ব্যাটারি থেকে নির্দিষ্ট ভোল্টেজের ডিসি বিদ্যুৎ কুকারে সরবরাহ করা হয়।

এরপর সাধারণ রাইস কুকারের মতো চাল ও পানি দিয়ে ভাত রান্না করা যায়। কিছু মডেলে স্যুপ তৈরি, সবজি সিদ্ধ ও খাবার গরম করার সুবিধাও রয়েছে।

অন্যদিকে, সরাসরি সূর্যের তাপে পরিচালিত কুকারে নির্দিষ্ট স্থানে খাবারের পাত্র বসিয়ে প্রতিফলক আয়নার মাধ্যমে সূর্যের আলো কেন্দ্রীভূত করতে হয়। রোদের তীব্রতা ও আবহাওয়ার ওপর রান্নার সময় নির্ভর করে। মেঘলা আবহাওয়ায় রান্না ধীরগতির হতে পারে।

কেনার আগে যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

সোলার কুকার কেনার ক্ষেত্রে শুধু ১২ বা ২৪ ভোল্ট লেখা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। যন্ত্রটির বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষমতা কত ওয়াট, কতক্ষণ চালানো যাবে এবং ব্যাটারির ধারণক্ষমতা কত—এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে।

বিশেষ করে ১২ ভোল্টের কুকারে তুলনামূলক বেশি কারেন্টের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে উপযুক্ত মানের তার, সংযোগ ও চার্জ কন্ট্রোলার ব্যবহার জরুরি। নিম্নমানের সংযোগ কিংবা প্রয়োজনের তুলনায় পাতলা তার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি ও বৈদ্যুতিক ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া সোলার প্যানেলের উৎপাদনক্ষমতা, ব্যাটারির সক্ষমতা এবং কুকারের বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে। অন্যথায় প্রত্যাশিত সময় ধরে রান্না করা সম্ভব নাও হতে পারে।

সৌরবিদ্যুৎচালিত কুকার নিয়ে দেশেও গবেষণা

বাংলাদেশেও সৌরশক্তিনির্ভর রান্নার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির গবেষকেরা ২০২৩ সালে সৌরবিদ্যুৎচালিত ডিসি ইন্ডাকশন কুকারের নকশা ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন।

এস এম এন শামস, এফ সুলতানা, এ সাহা ও এম এ হক ‘পাওয়ার পয়েন্ট ট্র্যাকার মাউন্টেড সোলার পাওয়ার্ড ডিসি ইন্ডাকশন কুকার’ শিরোনামে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জার্নাল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চে (বিজেএসআইআর) গবেষণাটি প্রকাশিত হয়। এতে সোলার প্যানেল, এমপিপিটি চার্জ কন্ট্রোলার ও ব্যাটারির সমন্বয়ে রান্নার ব্যবস্থা তুলে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সৌরচুলা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হতে পারে। তবে যন্ত্রটি কিনলেই বিনা খরচে রান্নার সুযোগ তৈরি হবে না। সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ও কুকার কেনার জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। পরিবারের দৈনিক রান্নার চাহিদা, ব্যবহারকাল ও আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে উপযুক্ত প্রযুক্তি নির্বাচন করলেই সৌরচুলার সুফল পাওয়া সম্ভব।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad