একাধিক দাগে জমি কিনে এক দাগে দখল, আইনি জটিলতা এড়াতে যা করবেন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ বিকাল
  • ২১১৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
একাধিক দাগ থেকে জমি কিনে সব জমি এক জায়গায় একত্রে ভোগদখল কিংবা একটি দাগে নামজারি করলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও বাস্তব দখলের মধ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে সহশরিক বা বঞ্চিত ওয়ারিশদের মামলায় বিপাকে পড়তে পারেন ক্রেতা। এ ধরনের জটিলতা এড়াতে প্রতিটি দাগ অনুযায়ী জমির মালিকানা ও নামজারির হিসাব সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আইনগবেষক সিরাজ প্রামাণিকের মতে, একাধিক দাগ থেকে জমি কেনা হলে প্রতিটি দাগের জমি আলাদাভাবে নামজারি করতে হবে। বাস্তবে সব জমি এক জায়গায় ভোগদখল করলেও দাগভিত্তিক মালিকানার হিসাব পরিবর্তন করা যাবে না।

তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, কোনো ব্যক্তি একটি দাগ থেকে ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় দাগ থেকে ৩ শতাংশ এবং তৃতীয় দাগ থেকে ২ শতাংশ জমি কিনলে প্রতিটি দাগের জমির পরিমাণ অনুযায়ী পৃথকভাবে নামজারি করতে হবে। অর্থাৎ মোট ১০ শতাংশ জমি এক জায়গায় ভোগদখলে থাকলেও কাগজপত্রে কোন দাগ থেকে কতটুকু জমি কেনা হয়েছে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে।

বিক্রেতার হিস্যার বেশি জমি কিনলে বিপদ

আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিক বলেন, বিক্রেতার প্রকৃত মালিকানা বা প্রাপ্য হিস্যার চেয়ে বেশি জমি দলিলে উল্লেখ করা হলে ভবিষ্যতে বিরোধের আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে সহশরিক কিংবা অন্য ওয়ারিশরা আদালতে মামলা করলে জমির মালিকানা, বিক্রেতার প্রাপ্য অংশ এবং দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই সঙ্গে নামজারিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এক দাগে জমি ভোগদখলে রাখতে আইনি উপায়

একাধিক দাগ থেকে জমি কেনার পর সব জমি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় একত্রে ভোগদখল করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সহশরিকদের সঙ্গে পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে জমির অবস্থান ও মালিকানা সমন্বয়ের জন্য বিনিময় দলিল বা এওয়াজ বদল করে যথাযথভাবে নিবন্ধন করা যেতে পারে।

অন্যদিকে, ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগির বিষয়ে ঐকমত্য থাকলে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জমির সীমানা ও মালিকানা নির্ধারণ করা সম্ভব। পরে সেই বরাদ্দ অনুযায়ী নামজারি করা হলে জমির মালিকানা, বিক্রি ও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

জমি কেনার আগে যেসব বিষয়ে সতর্কতা জরুরি

শরিকানা বা ওয়ারিশি সম্পত্তি কেনার আগে দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা যাচাই করা জরুরি। শুধু ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে নামজারি করলেই কোনো নির্দিষ্ট দাগের জমিতে প্রত্যেকের মালিকানা ও প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত হয়ে যায় না। তাই জমি কেনার আগে বিক্রেতার প্রকৃত মালিকানা, হিস্যা এবং জমির দখল সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে।

আইনজীবী সিরাজ প্রামাণিকের পরামর্শ, শরিকদের মধ্যে নিবন্ধিত আপস-বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে প্রত্যেকের নির্দিষ্ট জমির সীমানা ও মালিকানা স্পষ্ট করা হলে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad