সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ পুরোনো গবেষণার মাঠে ট্রাক্টর চালিয়ে চাষাবাদ করলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ বিকাল
  • ৯৯১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থাপনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে দুটি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে মেলার অবশিষ্ট স্থাপনা অপসারণের পর সেখানে হাল চাষ করেন তারা।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খামার থেকে দুটি ট্রাক্টর নিয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিলসহ পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান। পরে মাঠে থাকা এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার অবশিষ্ট স্থাপনাগুলো ভেঙে ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক গবেষণার মাঠ হিসেবে পরিচিত। সেখানে সচিবালয় নির্মাণের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করছেন তারা। তাদের দাবি, মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে আগের মতো গবেষণা ও সবুজায়নের কাজে ব্যবহার করতে হবে।

এর আগে মাঠটি উদ্ধারের দাবিতে এশিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা বন্ধের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে মেলা বন্ধ না হওয়ায় মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে মন্ত্রণালয় থেকে মেলা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও মাঠে অবশিষ্ট স্থাপনা সরানো হয়নি। এর প্রতিবাদে সোমবার স্থাপনাগুলো অপসারণ করে চাষাবাদের কর্মসূচি পালন করেন তারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী হাসান বলেন, ‘এই মাঠ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি ফুসফুস। ঐতিহাসিক এই গবেষণার মাঠে সচিবালয় স্থাপন করা হলে পুরো এলাকার জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সবুজায়ন করা হলে পুরো অঞ্চল রক্ষা পাবে।’

মেলার একটি স্টলের কর্মচারী রিফাত রহমান অভিযোগ করেন, মেলা বন্ধের ঘোষণা আসার পর তারা মালামাল নিয়ে চলে যেতে চাইলেও মেলা কমিটির পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মেলা স্থগিতের সরকারি সিদ্ধান্তের পর এক দিনের মধ্যে মাঠের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল আয়োজক কমিটি। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং স্থাপনা সরানোর উদ্যোগ না নিয়ে আয়োজকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমঝোতার চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad