মাতারবাড়ী বন্দর ঘিরে ভারতের স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন, সামনে ভূরাজনৈতিক সমীকরণ

  • প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ দুপুর
  • ১০৬৮৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিগ-বি উদ্যোগে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি জাপানি বিনিয়োগের পরিকল্পনা, করিডর সুবিধা নিয়ে জামায়াতের উদ্বেগ; সব দেশের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার কথা সরকারের

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক টোকিও সফরে দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক জাপানের ‘বিগ-বি’ (বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ) উদ্যোগ নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। এ উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে প্রকল্পের সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের বিষয় যুক্ত হওয়ায় ভারতের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কানেক্টিভিটির নামে ভারতকে কোনো করিডর বা পণ্য পরিবহনের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। যদিও সরকার বলছে, মাতারবাড়ী কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য নয়; বাংলাদেশের রপ্তানি, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবেই এটি গড়ে তোলা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রকল্পটি ঘিরে চীন, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিপুল বিনিয়োগ ও ঋণের অর্থনৈতিক সুফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই এখন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা থেকে গভীর সমুদ্রবন্দর

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে প্রথমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয় বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ বিষয়ে চুক্তি হয়। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সমুদ্রতীর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার ভেতরে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। কয়লা পরিবহনের সুবিধার্থে সমুদ্র থেকে খনন করে ২৫০ মিটার প্রশস্ত ও ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌ-চ্যানেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০১৭ সালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) একটি প্রাক্‌-সমীক্ষা চালিয়ে ওই চ্যানেল ব্যবহার করে বাণিজ্যিক বন্দর নির্মাণের সম্ভাবনা তুলে ধরে। জাইকার প্রস্তাব অনুযায়ী, চ্যানেলের দক্ষিণ পাশে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা সম্ভব। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লা পরিবহন এবং বাণিজ্যিক পণ্য ওঠানামার জন্য একই অবকাঠামো ব্যবহার করা যাবে। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নির্মাণব্যয়ও কমবে।

বাংলাদেশ সরকার পরে এ প্রস্তাব গ্রহণ করে। এরপর বন্দর নির্মাণের উপযোগী করে নৌ-চ্যানেলের গভীরতা ও প্রশস্ততা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এভাবেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য তৈরি অবকাঠামোকে ঘিরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ বিস্তৃত হয়।

বিগ-বি উদ্যোগে কী পরিকল্পনা রয়েছে

বিগ-বির পূর্ণ নাম ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ’। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক এ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে শিল্প, বাণিজ্য, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায় জাপান।

এর মূল লক্ষ্য মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠা এবং সড়ক, রেলসহ বিভিন্ন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন। ইতিমধ্যে সেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল, বন্দর ও শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণায় বিগ-বি উদ্যোগের চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা জোরদার।

এ উদ্যোগের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি জাপানি বিনিয়োগ আসার পরিকল্পনার কথাও রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার বিষয়টি যৌথ ঘোষণায় স্থান পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে চায় সরকার।

তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পর সেখানে জ্বালানি, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও রয়েছে। পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত বিভিন্ন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

জাপানি বিনিয়োগের পাশাপাশি ঋণের দায় বাংলাদেশের

মাতারবাড়ীকে বৈশ্বিক রপ্তানি কেন্দ্রে পরিণত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্র, এলএনজি টার্মিনাল, শিল্পকারখানা, গভীর সমুদ্রবন্দর ও যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। এসব প্রকল্পের বড় অংশে জাপানের অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঋণ হিসেবে নেওয়া অর্থ পরিশোধের দায় বাংলাদেশের ওপরই বর্তাবে।

এ কারণে জাপানি বিনিয়োগের বিপরীতে বাংলাদেশ কতটা অর্থনৈতিক সুফল পাবে, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিবিসি বাংলাকে বলেন, মাতারবাড়ী প্রকল্প থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো এলাকায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আসতে পারে বেসরকারি খাত থেকে। এসব বিনিয়োগের বড় অংশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, জাপানের মতো বড় বিনিয়োগকারী এলে অর্থ ও পুঁজির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিও আসবে। এতে স্থানীয় উদ্যোক্তারা জাপানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা করার সুযোগ পাবেন। বিভিন্ন শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহব্যবস্থাও গড়ে উঠবে।

তাঁর ধারণা, পুরো প্রকল্প এলাকায় কয়েক দশকে প্রায় ২৮ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাতারবাড়ী ঘিরে ভারতের প্রসঙ্গ কেন

মাতারবাড়ী প্রকল্পে ভারতের সম্পৃক্ততার আলোচনা নতুন নয়। বিগ-বি উদ্যোগের প্রাথমিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানকে সম্ভাব্য বাজার হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।

২০১৪ সালের মে মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরের সময় দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রথম বিগ-বি উদ্যোগের ধারণা সামনে আনেন। একই বছরের জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে জাইকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা উদ্যোগটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

তখন গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার, জ্বালানি এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়নকে বিগ-বির প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজার গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল।

পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরেও বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রস্তাব আলোচনায় আসে।

অর্থাৎ মাতারবাড়ী ও বিগ-বি উদ্যোগের পরিকল্পনার শুরু থেকেই ভারতের বাজার ও আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি আসার পরও প্রকল্পটির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে দুই দেশ উদ্যোগটিকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

সাম্প্রতিক যৌথ ঘোষণায় সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ না থাকলেও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে ভারত এ প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো বিশেষ করিডর বা পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

কানেক্টিভিটি নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন

গত ৩১ অক্টোবর ঢাকায় এক সমাবেশে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পে কানেক্টিভিটির নামে ভারতকে সুবিধা দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর নিয়ে কোনো লোকচুরি হচ্ছে কি না, জাতি তা পরিষ্কার জানতে চায়। কানেক্টিভিটির নামে বাংলাদেশকে কারও কাছে ইজারা দেওয়া চলবে না।’

এ বিষয়ে জামায়াতের উদ্বেগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে বিবিসি বাংলা দলটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে নতুন করে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবিসিকে বলেন, জাপানের সঙ্গে যৌথ ঘোষণা ও চুক্তিগুলো বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করে পরে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবে তাঁর দল।

অন্যদিকে সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী বলেন, বিগ-বি উদ্যোগের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ইতিবাচক হলেও ভারতকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন।

তাঁর মতে, ভারতের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলে সমন্বিত বাজার তৈরির অর্থনৈতিক যুক্তি রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

ভারত ছাড়াও চীনকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক হিসাব

মাতারবাড়ী প্রকল্প ঘিরে আলোচনায় শুধু ভারত নয়, চীনের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, বাংলাদেশ ও জাপানের যৌথ ঘোষণায় মুক্ত ও স্বাধীন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কথা বলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার জাপান। অন্যদিকে চীন এ কৌশলকে এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব সীমিত করার মার্কিন প্রচেষ্টা হিসেবে দেখে। ফলে মাতারবাড়ীকে ঘিরে জাপানের বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক পরিকল্পনার ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, বিগ-বি উদ্যোগে ভারতকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলের আরও দেশকে যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকতে পারে। এর সঙ্গে ভূরাজনৈতিক বিষয়ও জড়িত।

তিনি মনে করেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও কৌশলগত সম্পর্ক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে ভারতের বড় বাজারকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো একটি দেশের বলয়ে অতিরিক্তভাবে যুক্ত না হয়ে সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলীও জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের জন্য সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করার কৌশল গ্রহণ জরুরি।

সব দেশের জন্য বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত: সরকার

মাতারবাড়ী প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের ভূরাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার সব দেশের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।

তিনি বলেন, চীনের বিনিয়োগে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কাজ হচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ রয়েছে।

তিতুমীরের ভাষ্য, মাতারবাড়ী কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। সব দেশের বিনিয়োগের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। তবে যেকোনো প্রস্তাব গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ও প্রস্তাবের যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্যই উন্মুক্ত। আমাদের সঙ্গে যে কেউ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিতে পারে। প্রস্তাবের যৌক্তিক ভিত্তি এবং বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করে সেগুলো গ্রহণ করা হবে।’

সব মিলিয়ে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রকল্পে বিপুল ঋণ ও বিনিয়োগের সুফল নিশ্চিত করা, আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং ভারত, চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই হবে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, ৭ নভেম্বর ২০২৬। প্রতিবেদন: ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে আলোচনায় ভারত’। প্রকাশিত: সকাল ৯টা ২৫ মিনিট; হালনাগাদ: সকাল ৯টা ৪৭ মিনিট।

বিভাগ: জাতীয় / অর্থনীতি / আন্তর্জাতিক




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad