বিশ্বব্যাংক গ্রুপের নির্বাহী পরিচালকদের পর্ষদ সম্প্রতি এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে। ‘লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ নামের কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রায় সর্বজনীন প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হলেও শিক্ষার মান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের ১০ বছর বয়সি শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই বয়স ও শ্রেণি উপযোগী সহজ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় ১০ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে সহজ লেখা পড়ে বুঝতে না পারার হার ৪২ শতাংশ এবং ব্রাজিলে ৪৭ শতাংশ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকার চিত্র উদ্বেগজনক।
পড়া, লেখা ও গণিতে বিশেষ গুরুত্ব
নতুন কর্মসূচির আওতায় শিশুদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণনাদক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্যাকেজ চালু করা হবে। এতে পাঠদানের উপকরণ, নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯০ শতাংশ প্রধান শিক্ষককে নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে বলেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় সক্ষম কর্মশক্তি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। গত দুই দশকে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ বাংলাদেশে প্রায় সব শিশুর বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করেছে। নতুন অর্থায়নের ফলে শিশুরা আরও ভালোভাবে শিখতে পারবে এবং বিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে। এতে ভবিষ্যতে ভালো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ভিত্তি শক্তিশালী হবে।
বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও কর্মসূচির দলনেতা তাসমিনা রহমান বলেন, ভালো চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রথম ধাপ হলো শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা। কোনো শিশু যাতে পিছিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে কর্মসূচির আওতায় পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। বিশেষ করে শিক্ষায় পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের মান বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বাজেটের জবাবদিহিমূলক ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্য-উপাত্তের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানও বাড়বে
কর্মসূচির আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে শিশুরা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরুর আগেই বিদ্যালয়ভিত্তিক পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও শেখার ভিত্তি অর্জন করতে পারবে।
বিশ্বব্যাংকের প্রত্যাশা, এ কর্মসূচির ফলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার অতিরিক্ত ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) থেকে এ অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটি নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান দিয়ে থাকে। অনুমোদিত ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর ঋণ পরিশোধে ছাড় থাকবে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স