শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপাচার্য বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে চরম রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা বিরাজ করছিল। একের পর এক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে সিপাহী ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে বন্দি অবস্থায় থাকা তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে আনেন এবং জাতির প্রয়োজনে তাঁকে দায়িত্বে বসান। এটি ছিল জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, হামলা-মামলা, জেল-জুলুম ও বিরোধী মত দমনের ঘটনা ঘটেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ফলে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়। চারটি পত্রিকা ছাড়া অন্য সব সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের আওতায় নিয়ে আসে। বাঙালি, চাকমা, মারমা, গারো, খাসিয়া ও মুরংসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত পরিচয়ের ধারণা হিসেবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা পায়।
ঢাবি উপাচার্যের ভাষ্য, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার যাত্রায় জিয়াউর রহমানের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর হাত ধরেই দেশে উন্নয়নমুখী রাজনীতির সূচনা হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। তাই ৭ নভেম্বরকে শুধু একটি দিবস হিসেবে নয়, জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই চেতনাকে ধারণ করে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করছেন উল্লেখ করে এ উদ্যোগে সবার ঐক্যবদ্ধ সমর্থন কামনা করেন তিনি।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক