শনিবার (৭ নভেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি জানান। একই সঙ্গে হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক হাবিবা ইয়াসমিন ও বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানদের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্বীকার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মেহেরুন্নেছা বেগমের সঙ্গে উপাধ্যক্ষ হাবিবা ইয়াসমিনের সরাসরি কথা হয়েছে। অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ উভয়েই নিশ্চিত করেছেন, শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষকে কোনো ধরনের আক্রমণ বা শারীরিক হেনস্তা করেননি। ফলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে দাবি তাদের।
এ ছাড়া উপাধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে অরাজনৈতিক, অহিংস ও শান্তিপূর্ণ বলে স্বীকার করেছেন। গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশের বিষয়েও কলেজ প্রশাসন অবগত ছিল না এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ডাকা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রবেশ নিয়ে প্রশ্ন
কলেজ প্রশাসনের এমন বক্তব্যের পর গভীর রাতে ক্যাম্পাসে পুলিশের প্রবেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন, কলেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা শিক্ষকরা পুলিশ না ডেকে থাকলে কার নির্দেশে এবং কার অনুমতিতে একটি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে পুলিশ প্রবেশ করেছিল?
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আইনি এখতিয়ার ও প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে সাধারণ ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ, শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তা চালানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, বৈধ অনুমতি ছাড়া গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের এমন হামলা বেআইনি। এটি নাগরিকের মৌলিক নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনকে জনসমক্ষে জবাবদিহি করতে হবে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও শাস্তির দাবি
শিক্ষার্থীরা বলেন, গভীর রাতে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের দায় পুলিশ প্রশাসনকে নিতে হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা এবং হামলার নির্দেশদাতাদের নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তাদের আরও দাবি, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক