দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ধানের শীষের পক্ষে নিরলস প্রচারে রাজিব আহসান চৌধুরী
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু মানুষ আছেন, যারা শুধুমাত্র নেতা নন– মানুষের আস্থার প্রতীক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসনের এমনই একজন পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু, যিনি মানুষের কাছে ‘দুর্দিনের পাপ্পু ভাই’ নামে পরিচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ (নবীনগর) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি একজন সম্ভাবনাময় ও জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে আলোচিত ছিলেন।
স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মকাণ্ডকে সুসংগঠিত করা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নবীনগরের রাজনীতিতে একটি আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ধারাবাহিক উপস্থিতি ও মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত করে তোলে। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েও দলীয় হাই কমান্ডের সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে ব্যক্তিগত প্রত্যাশা ও আবেগকে পাশ কাটিয়ে দলের বৃহত্তর স্বার্থে, দলীয় শৃঙ্খলা ও ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নবীনগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অ্যাডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তই আমাদের জন্য চূড়ান্ত, আর সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল কর্মীর পরিচয়। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দলের ঐক্য ও দেশের ভবিষ্যৎ অনেক বড়। তাই আমি নবীনগরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি আমার কাছে শুধুই ক্ষমতার লড়াই নয়; রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব। গত সতের বছর ধরে আমি আমার এলাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ সবার সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। সর্বোচ্চ সাধ্যমতো নবীনগরের মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি।
আলহামদুলিল্লাহ, মানুষ ভালোবেসে আমাকে ‘দুর্দিনের পাপ্পু ভাই’ নামে ডাকেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমি কোনো মানুষের কাছে কিছু চাই না; আমি সব সময় মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে মাঠে আছি। সংসদ সদস্য থাকি বা না থাকি, আমৃত্যু নবীনগরের মানুষের পাশে থাকব—ইনশাআল্লাহ।
তাঁর এই মনোভাব দলের নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা এবং ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া এবং ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করা রাজনীতিতে একটি বিরল ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। এলাকাবাসীর মতে, রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু শুধু একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা নন, তিনি নবীনগরের রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত, বিশ্বাসযোগ্য ও মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাপ্পুর এই অবস্থান দলীয় ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ত্যাগ, শৃঙ্খলা ও উদার নেতৃত্বের এই উদাহরণ আগামী দিনের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ