সিদ্ধান্তহীনতায় ফ্লোটিং ভোটাররা "( উল্লাপাড়া - সলঙ্গা ) সংসদ নির্বাচন "

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ দুপুর
  • ২৬৭৭৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg



আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মাঠ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে উল্লাপাড়া–সলঙ্গা আসনে। তবে এবারের নির্বাচনে চিরাচরিত দলকেন্দ্রিক ভোটের হিসাব ছাপিয়ে সামনে চলে এসেছে ব্যক্তি ইমেজ, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সক্ষমতা। ফ্লোটিং ভোটারদের মাঝে চলছে গভীর ও চুলচেরা বিশ্লেষণ কে হবেন এলাকার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও কল্যাণকর প্রতিনিধি ( ফ্লোটিং ভোটার বা ভাসমান ভোটার হলেন সেইসব ভোটার, যারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুগত নন এবং নির্বাচনে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। তারা সাধারণত নির্দিষ্ট দল করলেও বেশিরভাগ সময় ব্যক্তি ইমেজ বা প্রার্থীর যোগ্যতা ও নির্দিষ্ট ইস্যুতে ভোট দিয়ে থাকেন)।


আবার অন্যদিকে বিশেষ করে আলোচনায় রয়েছে আওয়ামী সমর্থিত ভোটারদের বড় একটি অংশ। তারা এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান না নিলেও, ভেতরে ভেতরে চলছে হিসাব নিকাশ। তাদের মূল প্রশ্ন কাকে ভোট দিলে পাড়া মহল্লায়, গ্রামগঞ্জে ও শহরের এলাকায় শান্তি বজায় থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কমবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে? এই অনিশ্চয়তাই এবারের নির্বাচনী সমীকরণকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। আবার আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থকরা বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী ও বিএনপি দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ দিচ্ছেন প্রার্থীদের হাত ধরে । প্রার্থীরাও তাদের ফুলের মালা গলায় দিয়ে দলে গ্রহণ করে নিচ্ছেন।


উল্লাপাড়া–সলঙ্গা আসনে এবারে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ব্যক্তি ইমেজকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে বৈষম্যহীন সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা। অনেক ভোটারের মতে, দলীয় পরিচয়ের বাইরে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও সামাজিক ভূমিকা এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এম আকবর আলী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি তার প্রচারণার মূল উপজীব্য। দল ছাড়াও তার ব্যক্তি ইমেজও রয়েছে সাধারণ ভোটারদের মাঝে। তিনি ভোটারদের আশ্বাস দিচ্ছেন সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ মুক্ত উপজেলা করবেন তিনি বিজয়ী হলে। তাছাড়া নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের দিকে নজর দিবেন।


জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিল্টন প্রামানিক লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনীতির কথা বলছেন। তিনি দাবি করছেন, সংঘাতমুক্ত রাজনীতি ও ধারাবাহিক উন্নয়নই উল্লাপাড়া–সলঙ্গার মানুষের প্রধান চাওয়া।


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রহমান পাখা প্রতীক নিয়ে নৈতিকতা, সুশাসন ও ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির বার্তা দিচ্ছেন। তরুণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি অংশ তার প্রচারণায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।


অন্যদিকে "বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)"র প্রার্থী আব্দুল হাকিম কাস্তে প্রতীক নিয়ে শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক ও মেহনতি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কথা বলছেন। যদিও তার ভোটব্যাংক সীমিত, তবে সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে তার অবস্থান আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে।


তৃণমূল ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা শুধু স্লোগান বা প্রতিশ্রুতি নয় খুঁজছেন বাস্তব কাজের মানুষ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক শান্তি এই বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে ভোটের সিদ্ধান্তে।


অনেক ভোটার বলছেন, দল তো দেখেছি অনেক, এবার মানুষ দেখে ভোট দিতে চাই। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, যে প্রার্থী ক্ষমতায় গেলে এলাকায় অশান্তি হবে না, সাধারণ মানুষ নিরাপদ থাকবে তাকেই ভোট দেওয়া উচিত।


সব মিলিয়ে উল্লাপাড়া–সলঙ্গা আসনের নির্বাচন এখন আর শুধু দল বনাম দল নয়, বরং মানুষ বনাম ইমেজ, প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন পথ বেছে নেবেন দলীয় আনুগত্য নাকি ব্যক্তি গ্রহণযোগ্যতা সে উত্তর মিলবে ভোটের দিনই।


তবে এটুকু স্পষ্ট, সচেতন ভোটারদের এই গভীর বিশ্লেষণ ও ভাবনাই প্রমাণ করে উল্লাপাড়া–সলঙ্গার মানুষ এবার তাদের ভোট দিতে চান মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad