জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ মে ২০২৬, ০১:৫৪ দুপুর
  • ১৫৮০৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, ১৯ মে : একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে হয়রানিমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অবস্থিত ভূমি ভবন-এ তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব।” তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে নাগরিকদের আর জমিজমা সংক্রান্ত সেবা নিতে অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না এবং দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে জমির মালিকানা ও শরিকানা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে সঠিক রেকর্ড সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা। মালিকানা, খাজনা, খতিয়ান, নামজারি, জমা-খারিজসহ ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রক্রিয়া এখন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

সরকারপ্রধান বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও ডিজিটাল হবে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিও তত সহজ হবে। অনলাইনভিত্তিক সেবা চালুর ফলে জনগণের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা ও জটিলতা। এসব সমস্যা নিরসনে পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্ভুল ভূমি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভূমি প্রশাসনের প্রায় সব সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা হয়েছে। এতে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণ আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনি ইশতেহারে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ করছে। সারাদেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজনও সেই প্রতিশ্রুতির অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “সরকার জনগণকে দেওয়া ওয়াদা পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।” দীর্ঘ সময়ের শোষণ ও বৈষম্যের পর দেশের মানুষ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রায় ৪৭ লাখ মামলা বিচারাধীন, যার বড় একটি অংশ জমিজমা সংক্রান্ত। এ পরিস্থিতিতে আদালতের বাইরে গ্রাম আদালত, সালিশ ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন-এর একটি উক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব।”

তিনি বলেন, জমি শুধু সম্পদ নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা, অর্থনৈতিক স্থিতি ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। এ কারণেই জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় আয়োজিত এই ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে জনগণ ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান সংগ্রহ, রেকর্ড সংশোধন এবং ভূমি সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তিসহ বিভিন্ন সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন।

সূত্র : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad