কাজ শেষের পরদিনই দেবে গেল কাবিটা প্রকল্পের রাস্তা, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ

  • মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৫ মে ২০২৬, ০৬:০১ বিকাল
  • ২১২২০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

কাজ শেষের পরদিনই দেবে গেল কাবিটা প্রকল্পের রাস্তা, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষোভ

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার কেওয়ারদিঘী গ্রামে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত একটি সলিং রাস্তা কাজ শেষ হওয়ার একদিনের মধ্যেই দেবে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির নিম্নমানের কাজ ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কেওয়ারদিঘী গ্রামের পাকা রাস্তা থেকে রহুল মাস্টারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২৮০ ফুট সড়কে সলিংয়ের কাজ করা হয়। প্রকল্পটির সভাপতি ছিলেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাজন মিয়া। গত শুক্রবার নির্মাণকাজ শেষ হলেও শনিবার সকালেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। আস্ত ইটের পরিবর্তে অধিকাংশ স্থানে ভাঙা ইটের টুকরো ব্যবহার করা হয় এবং ইটের ফাঁক বালু দিয়ে ভরাট করে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হয়। একটি ছোট যানবাহন চলাচলের পরই রাস্তার অর্ধেক অংশ বসে যায় এবং ইটগুলো ছড়িয়ে পড়ে।

কেওয়ারদিঘী গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “শুরু থেকেই আমরা কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। ভাঙা ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন গাড়ি চলতেই রাস্তা ভেঙে পড়েছে।”

শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। অনেক স্থানে ইট সরে গিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙা ইটের টুকরো ব্যবহার করে তা বালু দিয়ে ঢেকে রাখার চিত্রও দেখা যায়।

তবে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্য সাজন মিয়া অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “কাজ সঠিকভাবেই করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সমস্যা থাকলে তা মেরামত করা হবে।”

সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম ছোটন বলেন, “পুরো রাস্তা ভাঙা ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়নি। প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্থানে ব্যবহার করা হয়েছে। তারপরও কোনো সমস্যা থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেন, “ঈদের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি অর্থে নির্মিত রাস্তা একদিনের মাথায় দেবে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad