গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে কেন্দুয়ায় সংঘর্ষ, গুরুতর আহত ব্যবসায়ী ঢাকা মেডিকেলে
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আহত শাহ আলম উপজেলার ভাদেড়া গ্রামের বাসিন্দা। একই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই পলাশ মিয়াও আহত হয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মে বিকেলে কয়েকজন ব্যক্তি পলাশ মিয়াদের বসতভিটার জমিতে প্রবেশ করে দুটি রেইন্ট্রি গাছ কেটে ফেলেন এবং আরও একটি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের দাবি, ঘটনার জের ধরে ওই রাতেই বৈখুরহাটী বাজারে শাহ আলমের মালিকানাধীন ‘মিনা বস্ত্রালয়’ নামের দোকানে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে শাহ আলমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় তাঁর ভাই পলাশ মিয়াকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে শাহ আলমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পলাশ মিয়ার অভিযোগ, হামলার সময় দোকান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা নগদ অর্থ ও এক লাখ টাকার কাপড় লুট করা হয়। এছাড়া ভাঙচুরে আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হেবলু মেম্বার। তিনি বলেন, “গাছ কেনাবেচা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। লুটপাটের অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে দেখা গেছে।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স