টেকনাফে ডাকাতদলের সঙ্গে বিজিবির গোলাগুলি, দুই রোহিঙ্গা জেলে আটক
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীতে সশস্ত্র ডাকাতদলের সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা জেলেকে বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে হ্নীলা ১ নম্বর স্লুইসগেট সংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় একটি ডিঙ্গি নৌকায় অবস্থান করছিলেন দুই রোহিঙ্গা জেলে। এ সময় ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় থাকা সশস্ত্র একটি গ্রুপ তাদের ধাওয়া করে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জেলেরা হ্নীলা ১ নম্বর স্লুইসগেটের অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের ব্যবহৃত ডিঙ্গি নৌকাটি ছিনিয়ে নেয়।
উখিয়া ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম শনিবার রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, টেকনাফের হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে এবং শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ মিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে স্লুইসগেটসংলগ্ন নাফ নদী এলাকায় সশস্ত্র গ্রুপটি মাছ ধরারত দুই রোহিঙ্গা জেলেকে লক্ষ্য করে আনুমানিক তিন রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে তারা জেলেদের নৌকাটি ছিনতাই করে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে খরের দ্বীপের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে হ্নীলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় সশস্ত্র গ্রুপটি ডুবারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিজিবি সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে ডাকাতদলটি দ্রুত সরে যায় বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩) নামে দুই রোহিঙ্গা জেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
বিজিবি জানিয়েছে, বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক