দীর্ঘ অভিনয়জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অবশেষে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মান জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ‘আজীবন সম্মাননা’ পাচ্ছেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শবনম। এই স্বীকৃতির খবরে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি জানিয়েছেন, জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রয়াত স্বামী রবিনকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে।
ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত অভিনয়, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের অনন্য মিশেলে রুপালি পর্দায় দাপটের সঙ্গে রাজত্ব করেছেন শবনম। ‘নাচের পুতুল’ সিনেমায় নায়ক রাজ্জাকের বিপরীতে তার অভিনয় এবং কালজয়ী গান ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’ আজও দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে সমাদৃত। এছাড়া ‘সন্ধি’, ‘সন্দেহ’, ‘সহধর্মিণী’, ‘যোগাযোগ’ এবং কাজী হায়াত পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘আম্মাজান’-এ তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সম্মাননা এবং ‘মা পদক’ পেলেও এবারই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন তিনি।
জানা গেছে, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের প্রাথমিক ফল প্রকাশের পর কয়েকটি বিভাগ নিয়ে আপত্তি ওঠে। বিশেষ করে আজীবন সম্মাননা ও সেরা চিত্রনাট্য বিভাগে বিচারকদের সুপারিশ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি—এমন অভিযোগের পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের নীতিমালা অনুসরণ করে আজীবন সম্মাননার জন্য শবনমের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
সংশোধিত প্রজ্ঞাপনের খবর জানার পর প্রতিক্রিয়ায় শবনম বলেন,
“অনেক পরে হলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পাওয়ার ঘোষণায় আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত। আমি এ দেশেরই মেয়ে, এখানেই আমার জন্ম। পাকিস্তানের বহু চলচ্চিত্রে অভিনয় করলেও বাংলাদেশের অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন,
“আজকের এই আনন্দের মুহূর্তে আমার স্বামী রবিনকে খুব মিস করছি। তিনি বেঁচে থাকলে কতটা খুশি হতেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার একমাত্র ছেলে রনি এবং পরিবারের সবাই এই সংবাদে ভীষণ আনন্দিত। চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেক সহকর্মীও আমাকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।”
এই সম্মাননার জন্য বিচারকমণ্ডলী ও দেশের দর্শকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এই বরেণ্য অভিনেত্রী।
উল্লেখ্য, ‘আম্মাজান’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সময় অনেকেই প্রত্যাশা করেছিলেন শবনম ও প্রয়াত নায়ক মান্না জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হবেন। যদিও সে সময় সেই স্বীকৃতি পাননি, তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজীবন সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে তার বর্ণাঢ্য অভিনয়জীবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মিলল।
শবনমের ভাষায়, “‘আম্মাজান’ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দর্শকদের যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

প্রথম দর্পণ,বিনোদন ডেক্স