রামিসা হত্যাকাণ্ডে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড, সম্পদ নিলামের নির্দেশ আদালতের

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ বিকাল
  • ১১৩৮৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয় আসামিকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং তা পরিশোধ না করলে সম্পদ নিলামে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(২) ধারায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্না খাতুনকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের অর্থ ভিকটিম রামিসা আক্তারের আইনগত উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন আদালত।

আদালত আরও বলেন, অর্থদণ্ড পরিশোধে ব্যর্থ হলে আসামিদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে দিতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে স্বপ্না খাতুনকে এবং পরে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার আগে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরে এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পাঠ শুরু করেন বিচারক।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার বাসা থেকে বের হলে তাকে কৌশলে নিজেদের বাসায় নিয়ে যান স্বপ্না খাতুন। পরে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পরদিন ২০ মে ভিকটিমের বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মাত্র চার দিনের মধ্যে ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

চার্জশিটে ১৮ জন সাক্ষীর কথা উল্লেখ করা হয়। ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে অধিকাংশ সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা একই দিনে সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিরা আত্মপক্ষ সমর্থনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

পরবর্তীতে ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়াকে নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে শিশুটি বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে অপহরণ করে বাসায় নেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্না খাতুনকে আটক এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad