আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আরও কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশের পর সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় মূল্যবান এই ধাতুর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারেও সোনার দামে নতুন করে সমন্বয়ের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে শুক্রবার সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছিল। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের ভাষ্য, শক্তিশালী মার্কিন শ্রমবাজারের কারণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে ধরে রাখতে পারে বা প্রয়োজন হলে বাড়াতেও পারে। সাধারণত উচ্চ সুদের হার সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের চাহিদা কমিয়ে দেয়, যা দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে। এতে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেছেন, সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্তে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজন হলে ফেড অতিরিক্ত নীতিগত পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্বর্ণভোক্তা দেশ চীন স্বর্ণের মজুত বাড়ানোর ধারা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো স্বর্ণের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে চীনের স্বর্ণের মজুত দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে।
বিশ্ববাজারে দামের ওঠানামার কারণে গত সপ্তাহে ভারতে সোনার চাহিদা কিছুটা কম ছিল বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। একই সময়ে চীনের বাজারেও স্বর্ণের প্রিমিয়াম হ্রাস পেয়েছে। তবে ফিউচার মার্কেটে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কিছুটা বেড়েছে। ২ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে সোনায় নেট লং পজিশন ১৪ হাজার ৪০৯টি কন্ট্রাক্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪১-এ পৌঁছেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যহ্রাসের প্রভাব দেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে সোনার দাম কমলে সাধারণত কিছু সময়ের ব্যবধানে দেশীয় বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায়। ফলে শিগগিরই সোনার দামে নতুন সমন্বয়ের ঘোষণা আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন বাজুস সর্বশেষ সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ করে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়েছিল। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ