প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে সামগ্রিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির মতে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব, সংস্কারমুখী ও বিনিয়োগ-সহায়ক নানা পদক্ষেপ স্থান পেয়েছে এবারের বাজেটে। তবে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান সংকট বিবেচনায় খাতটির জন্য অতিরিক্ত নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার এক প্রতিক্রিয়ায় বিজিএমইএ জানায়, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’ শিরোনামে উপস্থাপিত বাজেটে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, যা ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএর মতে, কর কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা, রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, স্বয়ংক্রিয় কর রিফান্ড ব্যবস্থা, ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর সুবিধা এবং বন্ড ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শিল্প খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
সংগঠনটি বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছে নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ, সৌরবিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর রেয়াত, রিসাইকেল্ড পণ্যের করহার হ্রাস এবং পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি উৎপাদনে শুল্ক ও কর অব্যাহতির প্রস্তাবকে।
এছাড়া এসএমই ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত টার্নওভার সীমা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাত সংস্কার এবং শিল্প ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গৃহীত নীতিগত পদক্ষেপগুলোকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে বিজিএমইএ।
তবে সংগঠনটি বলেছে, বর্তমানে বৈশ্বিক মন্দা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাত কঠিন সময় পার করছে। চলতি অর্থবছরে পোশাক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিটপ্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমেছে। এর ফলে গত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের টেকসই বিকাশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে বিজিএমইএ। এর মধ্যে রয়েছে— পোশাক রপ্তানির ওপর উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ, নগদ সহায়তার ওপর আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, সাব-কন্ট্রাক্ট প্রক্রিয়ায় দ্বৈত কর বাতিল, করপোরেট করহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার।
বিজিএমইএর দাবি, দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা আরও সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, বিনিয়োগবান্ধব ও সংস্কারমুখী বাজেটের ধারাবাহিকতায় সরকার তাদের উত্থাপিত যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনা করবে এবং পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক