টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের ডা. শওকত আলী ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে শুধু ক্ষমা চাওয়ানো ও বিদ্যালয় থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দেওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঘটনার সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।
বুধবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক শালিস বৈঠকে অভিযুক্ত নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে শিক্ষিকার পা ধরে ক্ষমা চাইতে এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিঠু ভূঁইয়া এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
তবে ওই সিদ্ধান্তকে অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে শিক্ষিকা নাজমুন নাহার নাহিদ বলেন, একজন শিক্ষককে অসংখ্য শিক্ষার্থী ও সহকর্মীর সামনে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো গুরুতর ঘটনায় শুধুমাত্র ক্ষমা প্রার্থনা কোনোভাবেই ন্যায়বিচার হতে পারে না। তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের এক দপ্তরির ছেলে। শালিস বৈঠকেও সে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ আড়াল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।
এর আগে মঙ্গলবার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষিকার সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শিক্ষার্থীটি শিক্ষিকার ওপর চড়াও হয়ে তাকে চড়-ঘুষি মারে বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষার্থীর এমন আচরণে বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ও চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন নাজমুন নাহার নাহিদ। তিনি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শিক্ষকের ওপর শিক্ষার্থীর হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষানুরাগী ও সচেতন নাগরিকরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মোঃ আল আমিন হোসেন,বার্তা সম্পাদক