সবাই মিলে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ দুপুর
  • ১৯৬৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
​দেশে ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ নেই এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ও বৈষম্যহীন জাতি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার। এই জাতিতে কোনো প্রতিশোধ বা কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকবে না বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

​শনিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চর-কুশুন্ডা এলাকায় এবিজি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত শ্রী শ্রী কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​সাত রঙের সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে প্রত্যয়

​প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তার বক্তব্যে সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় স্পষ্ট বলেছেন—মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি, সমতলী আমরা সবাই এক সঙ্গে দেশের জন্য কাজ করব। আমাদের রাষ্ট্রে ধর্মীয় বা ভাষার কারণে কোনো বিভেদ নেই। আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং সবার আগে আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।”

​একটি সুন্দর উপমা দিয়ে তিনি বলেন, “সাতটি রঙের সমন্বয়ে যেমন একটি সুন্দর রংধনু তৈরি হয়, আমরাও ঠিক তেমনি সব ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করব। সবাই মিলে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব।”

​রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতি

​জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট এবং অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিজন কান্তি সরকার। বর্তমান সরকারের মাত্র চার মাস অতিবাহিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ-বিদেশ থেকে বুদ্ধিজীবীদের এনে দেশের উন্নয়নের জন্য একটি কার্যকর রূপরেখা তৈরি করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে একজন অত্যন্ত নিরহংকারী, সাধারণ ও সরলমনা মানুষ হিসেবে অভিহিত করে দেশের উন্নয়নে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

​২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ও গুজবের জবাব

​বিগত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী পরিস্থিতির স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সেদিন বিকেলে দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছিল। কিন্তু পরদিন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আওয়ামী লীগের অত্যাচারীদের বাড়িঘরে জনগণ ক্ষোভ প্রকাশ করলেও কোনো হিন্দু বা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বাড়িতে বা তাদের ওপর কোনো আক্রমণ হয়নি।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন ও দেশ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন যেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কোনো আঘাত না করা হয়। পাশের দেশের কিছু গণমাধ্যম ও বিতর্কিত চ্যানেল থেকে মন্দির ভাঙচুর ও অত্যাচারের নানা গুজব ছড়ানো হলেও, আমাদের দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে কোথাও এমন কোনো অন্যায়ের সত্যতা পাননি।”

​দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

​শ্রী শ্রী কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির। গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং নির্মল কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম, শিবালয় সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদিয়া সাবরিনা চৌধুরী, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার এবং জেলা ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

​অনুষ্ঠান শেষে মানবিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবিজি ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে এলাকার দুস্থ ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad