জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবারের ওই ভূমিকম্পের পর বুধবার পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আফটারশক (পরবর্তী কম্পন) অনুভূত হয়েছে। এতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.১। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬.৮ বলে জানিয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, ভূমিকম্পের ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও অনেক মানুষ এখনও উদ্ধার সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বলেন, আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার করা এখন সময়ের বিরুদ্ধে এক কঠিন লড়াই। উদ্ধার অভিযানে সামরিক বাহিনীসহ ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি সদস্য অংশ নিয়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাশিমা এলাকার ‘আয়ন মল’। ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ভবনের দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়ে। শপিংমলটির প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা জানিয়েছেন, এ ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, ইয়াৎসুশিরো শহরের একটি কাগজ কারখানায় দুইজনকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে আরও নয়জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। জাপানে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার আগে অনেক ক্ষেত্রে ‘কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তীব্র গরম বিরাজ করায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, কুমামোতোর ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে দ্রুত ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার ইউনিট পাঠানো হচ্ছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ, বিশেষ করে পরবর্তী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হানতে পারে। তাই সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে ভূমিকম্পের আঘাতে বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি সড়ক ও সেতুতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৯ শতকের ঐতিহাসিক ‘ইয়াৎসুশিরো শ্রাইন’-এর প্রার্থনা কক্ষসহ বহু স্থাপনা। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সূত্র: বিবিসি

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক