রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়কে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অন্যান্য স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ‘রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপনসহ ছয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা লিখিত বক্তব্যে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।
সংগঠনের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে যানজট, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। তবে কেন বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবিকার জন্য এসব যানবাহন চালাচ্ছেন এবং কেন সাধারণ যাত্রীরা সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে এগুলো ব্যবহার করছেন, সেই বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে অনেক মানুষ রিকশা ও অটোরিকশা চালানোর মতো পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সহজলভ্য ও কম খরচের বিকল্প গণপরিবহন সীমিত থাকায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। তাই সমস্যাটিকে শুধু যানজট বা দুর্ঘটনার দৃষ্টিতে না দেখে একটি সমন্বিত নীতির মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও রুট পারমিটের আওতায় এনে একটি সমন্বিত নীতিমালা ও বিধিমালা চূড়ান্ত করা এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় অটোমোবাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া।
এ ছাড়া সরকারি অনুমোদিত ই-রিকশার নকশা অনুযায়ী স্থানীয় উৎপাদকদের যানবাহন তৈরি ও বাজারজাতের সুযোগ দেওয়া এবং মেকানিকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটকে একচেটিয়া সুবিধা না দেওয়ারও দাবি রয়েছে।
সংগঠনটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পার্কিং ও চার্জিং স্টেশন স্থাপন, পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম ব্যাটারি ব্যবহারে সরকারি ভর্তুকি দেওয়া এবং সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত প্রত্যাহার।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে অনুমোদিত নকশায় রূপান্তরের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়ার পাশাপাশি যানজট কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে মহাসড়কে স্বল্পগতির ও স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক