পরিত্যক্ত ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবী-জুয়াড়িদের আড্ডা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৯ বিকাল
  • ৩৪৯৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আলোকদিয়ায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘মুজিব কিল্লা’টি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে। নাম পরিবর্তন করে বর্তমানে এটিকে ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র’ বলা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটি এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে আলোকদিয়ায় এ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়ের পাশাপাশি স্বাভাবিক সময়ে সামাজিক ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। তবে নির্মাণের পর থেকেই ভবনটি কার্যত অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে ভবনটির ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। অযত্নে পড়ে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জাম ও স্থাপনার অংশও নষ্ট হচ্ছে। বিশাল ভবনটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে স্থানীয় অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ জানান, বন্যার সময় মানুষ ও গবাদিপশুর আশ্রয়ের জন্য ভবনটি নির্মাণের কথা বলা হয়েছিল। তবে চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্কুলে আগে থেকেই বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র থাকায় নতুন এ স্থাপনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে আশ্রয়কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বন্যার সময় গবাদিপশু রাখার পাশাপাশি অন্যান্য সময়ে সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পরিকল্পনাও ছিল।

আলোকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোতালেব হোসেন বলেন, “আমি শুনেছি, কথিত আশ্রয়কেন্দ্রটিতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলা হয়। এ ছাড়া সেখানে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপও চলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভয়ে অনেকে এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।”

সরেজমিনে গিয়ে ভবনের ভেতরে কয়েকজনকে মাদক সেবন করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি ও চরাঞ্চলের কয়েকজন দুর্বৃত্ত ভবনটিকে বিভিন্ন অপকর্মের জন্য ব্যবহার করছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, একটি ভিডিওচিত্রে শিবালয় উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদকে প্রকাশ্যে নিলামের মাধ্যমে গাঁজা বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা ত্রাণ, পুনর্বাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান বলেন, “মুজিব কিল্লা এখন আর নেই, এখন এটার নাম হয়েছে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র।”

দীর্ঘদিন অব্যবহৃত এ স্থাপনাটি কার্যকরভাবে ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad