রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অন্তত ৩০টি চীনা কোম্পানির প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতির প্রেসসচিব মো. সরওয়ার আলম বিকেলে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান ইয়াও ওয়েন। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
বৈঠকে চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের বিভিন্ন অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি জানান, ওই সফরের অংশ হিসেবে চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর এবং মোংলা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠায় সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
বৈঠকে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের কৌশলগত সংলাপ দ্রুত শুরু এবং প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সংলাপ চালুর উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে চীনে কাঁঠাল, আম ও পেয়ারা রপ্তানি প্রক্রিয়া শুরু, সৌরশক্তি ও বৈদ্যুতিক যানবাহন সংযোজন কারখানা স্থাপন, চীন-বাংলাদেশ-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ও আলোচনায় আসে।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী থাকাকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চীন সফরের কথাও উল্লেখ করেন ইয়াও ওয়েন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বহুমাত্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক