প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন ইপিআর নির্দেশিকা, দায় নিতে হবে উৎপাদনকারী-আমদানিকারকদের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৩ রাত
  • ৫০০০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

দেশে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের ওপর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় আরোপ করে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ গেজেটে নির্দেশিকাটি প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সব ধরনের প্লাস্টিক পণ্য ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্দেশিকাটি তালিকাভুক্ত প্লাস্টিক পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে শুধু রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ নির্দেশিকার আওতামুক্ত থাকবে।

নতুন নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম বা ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য। শেষ শ্রেণির মধ্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার ও সিগারেট ফিল্টারসহ বিভিন্ন পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, পরিবেশ অধিদপ্তর ধাপে ধাপে ‘অবলাইজড এনটিটি’ বা বাধ্যতামূলকভাবে দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করবে। প্রথম দুই বছরে বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরবর্তী দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন নিতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর।

প্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অথবা প্রোডিউসার রেসপনসিবিলিটি অর্গানাইজেশন (পিআরও)-এর মাধ্যমে যৌথভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

ইপিআর নির্দেশিকায় বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়নের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্য পূরণ করতে হবে। পরবর্তী বছরগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ শতাংশ এবং পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব লক্ষ্যমাত্রা পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ করা হবে।

নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগ্রহ করা প্লাস্টিক বর্জ্য সরকার অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করা যাবে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবছর তাদের কার্যক্রম ও অগ্রগতির প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তথ্য যাচাই করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান অসত্য তথ্য দিলে তাদের নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সরকারের আশা, নতুন নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা পণ্য ব্যবহারের পর সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন। এর ফলে বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং দেশে চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমি বিকাশে গতি আসবে।

একই সঙ্গে প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে সৃষ্ট সামুদ্রিক দূষণ কমানো এবং প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নির্দেশিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আশা করছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad