ভিটামিন ডি পেতে কতটুকু রোদ পোহানো উচিত?

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৯ দুপুর
  • ৩৯১৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

শরীর সুস্থ রাখতে সূর্যের আলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির (ইউভি) সংস্পর্শে ত্বকে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। এই ভিটামিন হাড় ও পেশি শক্তিশালী রাখার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত রোদ ত্বক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সূর্যালোক গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় রোদে থাকার প্রয়োজন নেই। অল্প সময়ের সূর্যালোকও অনেক ক্ষেত্রে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার শরীরে একই হারে ভিটামিন ডি তৈরি হয় না। বয়স, ত্বকের রং, ভৌগোলিক অবস্থান, ঋতু ও আবহাওয়ার কারণে এ ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখা যায়। তুলনামূলক গাঢ় ত্বকে প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেশি থাকায় ভিটামিন ডি তৈরিতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।

সূর্যের আলো শুধু ভিটামিন ডি তৈরির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, ঘুম ও মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে সকালের প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো না পেলে ঘুমের ব্যাঘাতের পাশাপাশি মন খারাপ বা অবসাদের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

তবে প্রতিদিন ঠিক কতক্ষণ রোদে থাকতে হবে—এর নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। কারণ অঞ্চল, ঋতু ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা বা ইউভি ইনডেক্স পরিবর্তিত হয়। তাই শুধু সময়ের হিসাব না করে সূর্যের তীব্রতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

ফর্সা বা সংবেদনশীল ত্বকের মানুষদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সূর্যের তেজ বেশি থাকলে ত্বক ঢেকে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। তীব্র রোদে বাইরে গেলে চোখ সুরক্ষায় সানগ্লাস ব্যবহার করাও উপকারী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি সময় রোদে থাকলে শরীর অতিরিক্ত ভিটামিন ডি তৈরি করে না। বরং দীর্ঘ সময় সূর্যের আলোতে থাকলে ত্বকে রোদে পোড়া, অকাল বার্ধক্যের ছাপ এবং ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অতিরিক্ত সূর্যালোক চোখেরও ক্ষতি করতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকলেও শরীরে ভিটামিন ডির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এর ফলে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সূর্যালোকের পাশাপাশি মাছ, ডিমসহ ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমেও এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করা যায়।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। অতিরিক্ত মাত্রায় ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জোয়ান ম্যানসনসহ বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘ সময় রোদে থাকার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁদের পরামর্শ হলো—রোদকে পুরোপুরি এড়িয়ে না গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমিত সূর্যালোক গ্রহণ করতে হবে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক ও চোখকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

সুতরাং, ভিটামিন ডির জন্য নির্দিষ্ট সময় ধরে তীব্র রোদে থাকার চেয়ে নিজের ত্বকের ধরন, আবহাওয়া ও সূর্যের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে পরিমিত সূর্যালোক গ্রহণ করাই নিরাপদ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad