১৫ আগস্ট ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ঠেকাতে দেশজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিভিন্ন সভা-সেমিনারে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
র্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে নজরদারি, রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা এবং অনলাইনে গুজব-অপপ্রচার প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর আওতায় সংবেদনশীল এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার
রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বিভিন্ন স্থানে তথ্যদাতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে আগাম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে যাতায়াতের রুট ও আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি, যানবাহন ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত বা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিষয়েও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সরকারি নথিতে আওয়ামী লীগের অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর প্রকাশনা, প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার প্রজ্ঞাপন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে প্রকাশ্যে বা গোপনে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না পায়, সেটিও র্যাবের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো দুষ্কৃতকারী, উগ্রবাদী গোষ্ঠী কিংবা নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য যাতে কর্মসূচিতে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
অনলাইনেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি
১৫ আগস্টের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কোনো মহল যাতে জনমনে আতঙ্ক বা মাঠপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য, ছবি বা অন্য কোনো কনটেন্টের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা শনাক্ত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রস্তুত বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট
নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিস্ফোরক মোকাবিলায় র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোথাও বিস্ফোরক কিংবা বিস্ফোরকসদৃশ কোনো বস্তু পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউনিটটি প্রস্তুত থাকবে।
নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
১৫ আগস্ট উপলক্ষে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে র্যাব। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চোখে পড়লে নিজে পরিস্থিতি মোকাবিলা না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক