বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আজ আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, তাফসির, কাজ এবং অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা রয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, কিছু মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলেও মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী তেমনই একজন। তিনি কুরআনের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জীবনের অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। শহরের মঞ্চ থেকে গ্রামের মাঠ—সবখানেই তিনি মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার এবং কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জামায়াত আমিরের ভাষ্য, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেও আল্লামা সাঈদীর তাফসির ও ধর্মীয় আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। শীতের রাতেও খোলা মাঠে লাখো মানুষ তাঁর কণ্ঠে কুরআনের তাফসির শুনেছেন। তাঁর আলোচনায় বহু মানুষের ধর্মীয় জীবনে পরিবর্তন এসেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আল্লামা সাঈদীর জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে কুরআন শেখা, শেখানো এবং এর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে। কুরআনের শিক্ষা ও প্রসারে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর ওয়াজের ময়দান অসংখ্য মানুষের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের ভালোবাসা তাঁকে তাফসিরের ময়দান থেকে জাতীয় সংসদেও নিয়ে যায়। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা এবং সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবি নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর রাজনীতি ও মতাদর্শ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে তাঁর বিপুল অনুসারী ও জনসমর্থন বাংলাদেশের ধর্মীয়-রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য বাস্তবতা।
আল্লামা সাঈদীর কারাবাস ও বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির তাঁর ওপর জুলুম-নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মামলায় সাক্ষী হিসেবে হাজির হওয়া সুখরঞ্জন বালি আল্লামা সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চেয়েছিলেন এবং এ কারণে তাকে গুম করা হয়েছিল।
আল্লামা সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর দেশজুড়ে সংঘটিত বিক্ষোভ ও সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেদিন অগণিত মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবাদে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। ভবিষ্যতে ওই সময়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও লেখেন, কারাগারের দেয়াল একজন মানুষের শরীরকে আটকে রাখতে পারে, কিন্তু মানুষের ভালোবাসাকে আটকে রাখা যায় না। বছরের পর বছর কারাবন্দি থাকলেও দেশের অসংখ্য ঘরে সন্ধ্যার সময় আল্লামা সাঈদীর কণ্ঠে ধারণ করা তাফসিরের রেকর্ডিং শোনা হয়েছে। মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করেছে।
জামায়াত আমির বলেন, আজ আল্লামা সাঈদী আমাদের মাঝে নেই। সময়ের পরিবর্তনে তাঁকে বন্দি রাখা সেই শাসনেরও অবসান হয়েছে। তবে রয়ে গেছে তাঁর কণ্ঠের স্মৃতি, তাফসির, কাজ এবং মানুষের ভালোবাসা। মানুষ চলে গেলেও তাঁর দাওয়াত থেকে যায়; কণ্ঠ থেমে গেলেও তাঁর রেখে যাওয়া আহ্বান থেমে যায় না।
পোস্টের শেষাংশে কবি আল মাহমুদের একটি কবিতার পঙ্ক্তি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান আল্লামা সাঈদীর জন্য দোয়া করেন। তিনি তাঁর ভুলত্রুটি ক্ষমা, নেক আমল কবুল এবং জান্নাতুল ফেরদাউসে উচ্চ মাকাম দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার