রাজার মৃত্যুর পর রাজপ্রাসাদের ছাদে থাকা রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। মৃত্যুর আগের ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় রাজপ্রাসাদের সামনে জড়ো হয়ে বহু মানুষ ফুল দিয়ে রাজার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
সিংহাসনে ক্রাউন প্রিন্স হাকনপঞ্চম হারাল্ডের মৃত্যুর পর তার ৫৩ বছর বয়সী ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন। শুক্রবার সরকার ও রাজপরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাষ্ট্রীয় পরিষদে তার নতুন দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।
হারাল্ড ছিলেন ১৪ শতকের পর নরওয়েতে জন্ম নেওয়া প্রথম রাজা। ১৯৯১ সালে সিংহাসনে আরোহণের পর প্রায় ৩৫ বছর তিনি দেশটির রাজা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আধুনিক রাজতন্ত্রে ভূমিকাদীর্ঘ শাসনকালে পঞ্চম হারাল্ড নরওয়ের রাজতন্ত্রকে আধুনিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাধারণ পরিবারের নারী সোনিয়া হারাল্ডসেনকে বিয়ে করে তিনি রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতিতেও পরিবর্তন আনেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতেন হারাল্ড। এ কারণে নরওয়েতে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। রাজপর্যবেক্ষকদের অনেকে তাকে ‘জাতির দাদু’ ও ‘জনগণের রাজা’ হিসেবে অভিহিত করতেন। তার বাবা রাজা পঞ্চম ওলাভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের উপাধি ব্যবহৃত হয়েছিল।
২০১১ সালে অসলো ও উটোয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা হামলা ও বন্দুক হামলার পর নরওয়ের জনগণকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন পঞ্চম হারাল্ড।
বিশ্বনেতাদের শোকরাজার মৃত্যুতে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি হারাল্ডের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।
সুইডেনের রাজা ষোড়শ কার্ল গুস্তাফও হারাল্ডকে নিজের, পরিবারের এবং সুইডেনের একজন ভালো বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন রাজা হাকনের জন্য সাফল্য ও সৌভাগ্য কামনা করেছেন।
সূত্র: বিবিসি

প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক