১০ ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তবুও গ্রেপ্তার হননি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জিয়ান চট্টগ্রাম ব্যুরো

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৫ দুপুর
  • ৭০৭৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা জোবাইরুল হক জিয়ানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয় ব্যবহার, প্রতারণার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলা, স্পর্শকাতর তথ্য ও ছবি-ভিডিও সংগ্রহ এবং সেগুলো ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে নতুন করে অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এত অভিযোগের পরও জিয়ানকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২২ আগস্ট জিয়ানের কথিত অপকর্ম নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ভুয়া নারী পরিচয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে পুলিশ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরই নতুন করে ভুক্তভোগীরা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া নারী পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। একপর্যায়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের কাছ থেকে স্পর্শকাতর তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো। পরে এসব তথ্য ও উপকরণ ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগকারীদের অনেকেই বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথিত ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে জিয়ান তাদের আরও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ কারণে ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছেন। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জিয়ানের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছদহা এলাকায়। তিনি ওই উপজেলার নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বিদেশে আত্মগোপনে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একাধিক নেতার সঙ্গেও তার নিয়মিত যোগাযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

এত অভিযোগের পরও জিয়ানকে আইনের আওতায় না আনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

তবে পুলিশের দাবি, জিয়ানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আইনজীবীরা অবশ্য পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, কোনো ব্যক্তি ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা না থাকলেও পুলিশ প্রাথমিকভাবে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত করতে পারে। প্রয়োজনে পুলিশ বাদী হয়েও মামলা করতে পারে। তাই মামলা না থাকলে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না—এমন ধারণা সঠিক নয়।

তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি পুলিশ বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করে থাকেন, তাহলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জনস্বার্থ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত হতে পারে। এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে পুলিশের দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি অব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরে অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জিয়ানকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে কোনো ধরনের নির্দেশনা নেই। এ বিষয়ে বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জেলা পুলিশই দিতে পারবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad