শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার মোহবুল্লাহ কলেজ মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাষ্ট্রের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে। এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিদ্যুতের বেহাল অবস্থা। বিদ্যুৎ যায় নাকি বিদ্যুৎ আসে, বোঝা বড় মুশকিল হয়ে গেছে।’ তিনি দাবি করেন, সরকার ১৮০ দিনে এক কোটি কর্মসংস্থান করার কথা বলেছিল। কিন্তু সেই কর্মসংস্থান কোথায় হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ৬২ হাজার চাকরিজীবী চাকরি হারিয়েছেন এবং ৪১টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নষ্ট হয়েছে। এসব কেন্দ্র মেরামত করে সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জ্বালানি ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির সমালোচনা করে বুলবুল বলেন, জ্বালানি তেল, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং দফায় দফায় দ্রব্যমূল্য বাড়ায় মানুষের জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, একটি রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ১০ মিনিট বৃষ্টি হলেই সেখানে হাঁটুপানি জমে যায়। তবে তাঁদের অভিযোগ ছিল—রাস্তার দুর্ভোগের চেয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস না থাকাই বড় সমস্যা।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের কারণে দেশের স্বাভাবিক ব্যবস্থাপনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি বন্ধ করাকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নেওয়া উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত দুর্নীতি নিয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য নেই বলে অভিযোগ করেন বুলবুল।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে তা জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় অর্থ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু সরকার তা করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করে বুলবুল বলেন, ‘সস্তা রাজনীতি করতে গিয়ে ১৮০ দিনে এ সরকার সবকিছু লেজেগোবরে করে ফেলেছে।’
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নুরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, অন্যায়ভাবে পুশইনের মাধ্যমে ভারতে থাকা মুসলমান ও বাংলাভাষী মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেশের ওপর অর্থনৈতিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সীমান্তে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সরকারের নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, বর্তমান সরকার এখন পর্যন্ত তা নিতে পারেনি।
নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বুলবুল বলেন, ‘আমরা নতুন বাংলাদেশ চাই, আমরা রাষ্ট্রের সংস্কার চাই, আমরা জনগণের অধিকার চাই।’ তিনি নিরাপদ, বসবাসযোগ্য ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ এবং সংবিধান সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের কথা বলেন তিনি।
উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শামসুদ্দিন আলকেশের সভাপতিত্বে গণজমায়েতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুজার গিফারী এবং জেলা ছাত্রশিবির পূর্ব শাখার সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার