শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড জব্দ, নয়াবাজারে বিক্রির চেষ্টা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৭ বিকাল
  • ১৮৩৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বন্ড সুবিধায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা প্রায় ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড নির্ধারিত গন্তব্য খুলনায় না নিয়ে পুরান ঢাকার নয়াবাজারে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পণ্যবোঝাই ১০টি ট্রাক কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইডি) নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযানের সময় একটি ট্রাক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। সেটিকে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

শনিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ভারতের মেহালি পেপার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে খুলনার শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেডের নামে এসব ডুপ্লেক্স বোর্ড আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে শুল্কায়ন শেষে পণ্যগুলোর নির্ধারিত গন্তব্য ছিল খুলনার তেলিগাতি এলাকার প্রতিষ্ঠানটি। পণ্য পরিবহনের দায়িত্বে ছিল ডেল্টা ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস। আর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল এম এ আজাদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খুলনায় যাওয়ার নির্ধারিত বাইপাস রুট হলো কাঁচপুর, সাইনবোর্ড, পোস্তগোলা, মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে। কিন্তু ১০টি ট্রাকের বহর নির্ধারিত পথে না গিয়ে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় ঢুকে পড়ে। কাস্টমস গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল, নয়াবাজারের একটি স্থানীয় আড়তে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাগজ খালাস করে বিক্রির প্রস্তুতি চলছিল।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক-১-এর নেতৃত্বে কর্মকর্তাদের কয়েকটি দল বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। অভিযানে র‌্যাব-১০ ও পুলিশের লালবাগ বিভাগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে। এ ছাড়া অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়।

কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বহরের একটি ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে নয়াবাজারে আগে থেকে অবস্থান করা এবং পণ্য বিক্রির প্রস্তুতিতে থাকা আরেকটি ট্রাক আটক করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রমে মোট ১০টি পণ্যবোঝাই যান কাস্টমসের নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিক হিসাবে এসব ট্রাকে প্রায় ৮১ টন ডুপ্লেক্স বোর্ড ছিল বলে জানা গেছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করা কাঁচামাল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত কারখানা বা গুদামে নিয়ে উৎপাদন কাজে ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অনুমতি ছাড়া এসব পণ্য অন্যত্র স্থানান্তর, খোলাবাজারে বিক্রি কিংবা নির্ধারিত কার্যক্রমের বাইরে ব্যবহার করলে তা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের পাশাপাশি শুল্ক-কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করে।

ঘটনার পর আটক পণ্যের সঠিক পরিমাণ, ট্রাকগুলোর মালিকানা, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও পরিবহনকারীর ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস, প্যাকিং লিস্ট, পরিবহন চালান, বন্ড লাইসেন্স এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদনপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।

নয়াবাজারের কোন আড়তদারের কাছে পণ্যগুলোর চালান সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটির অবস্থান শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চলছে।

কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, এর আগে একই পদ্ধতিতে বন্ডেড পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনা ঘটেছে কি না এবং এতে সরকারের সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ কত, তদন্তে এসব বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।

নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ার পর বন্ড সুবিধার অপব্যবহার বা শুল্ক-কর ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad