বিধিমালা ও জনবল সংকটে কার্যক্রমে ধীরগতি এফআরসির

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫২ দুপুর
  • ১০১৪১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) গঠনের এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো স্থায়ী জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে জনবল নিয়োগ নিয়ে আইনি জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় চারটি বিধিমালার অনুমোদন আটকে থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় সংকটে পড়েছে আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষা তদারকির দায়িত্বে থাকা এ সংস্থা।

২০১৬ সালের এপ্রিলে যাত্রা শুরু করা এফআরসিতে বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছেন। বছরের পর বছর স্থায়ী জনবলের পরিবর্তে ইন্টার্নদের দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্থার কার্যক্রম বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এফআরসির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালা, আর্থিক বিবরণী দাখিল সংক্রান্ত বিধিমালা, হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস বিধিমালা প্রণয়ন করে অর্থ বিভাগের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে এসব বিধিমালার অনুমোদন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যায় পড়ছে এফআরসি।

অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ রাশেদুল হোসেন জানান, প্রশাসনিক জরিমানা বিধিমালার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এটি এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে আর্থিক বিবরণী দাখিল, আপিল কর্তৃপক্ষ এবং চার্টার্ড অব লিগ্যাল ফিস-সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধনের কাজও চলছে।

এদিকে এফআরসির চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের মে মাসে সাবেক কর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এফআরসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি স্থায়ী জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেন। প্রথমে ১৫০ জন জনবল নিয়োগের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে ৫৭ জন নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া যায়।

এরপর নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এফআরসি। ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর নিয়োগপ্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করা হয়। স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে আপিল বিভাগ মামলাটি নিয়মিত শুনানির জন্য সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলাটি শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে ৫৭টি পদ বাদ দিয়ে ১৫০ জনের অনুমোদিত কাঠামোর অবশিষ্ট ৯৩টি পদে নতুন করে নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে এফআরসি। সংস্থাটির যুক্তি, ৫৭ জনের নিয়োগপ্রক্রিয়া আইনি জটিলতায় আটকে আছে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই নিয়োগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে বাকি ৯৩টি পদে নিয়োগের অনুমোদন পাওয়া গেলে জনবল সংকটের একটি অংশের সমাধান হবে। তবে নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সদ্য বিদায়ি চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এফআরসিকে শক্তিশালী করা জরুরি। স্থায়ী জনবল ছাড়াই সংস্থাটি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনগত জটিলতার কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসনে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এফআরসির কার্যক্রমে গতি আনতে চারটি বিধিমালা প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এসব বিধিমালা দ্রুত অনুমোদিত হলে সংস্থাটির কার্যক্রম আরও কার্যকর ও গতিশীল হবে।

এদিকে হিসাবরক্ষণ ও আপিল কর্তৃপক্ষ বিধিমালা অনুমোদিত না হওয়ায় আপিল কর্তৃপক্ষ গঠন করতে পারছে না এফআরসি। ফলে এফআরসির কোনো সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষের আপিলের সুযোগও তৈরি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে গত ১১ আগস্ট একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এফআরসি জানিয়েছে, আপিল কর্তৃপক্ষ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংক্ষুব্ধ পক্ষ কাউন্সিলের কাছে রিভিউ আবেদন করতে পারবে।

ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ অনুযায়ী গঠিত এফআরসির অন্যতম দায়িত্ব হলো বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন ও অডিট রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করা এবং নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক আর্থিক প্রতিবেদন নিশ্চিত করা গেলে সরকার যথাযথ রাজস্ব আদায় করতে পারবে এবং বিনিয়োগকারীরাও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও নির্ভরযোগ্য আর্থিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ।

খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের যথার্থতা নিশ্চিত করতে এফআরসিকে শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। তাই দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে জনবল নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় বিধিমালা অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের অধ্যাপক আল আমিন বলেন, এফআরসিকে কার্যকর করতে দক্ষ জনবল নিয়োগ জরুরি। একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ইন্টার্নদের দিয়ে পরিচালিত হতে পারে না। তার মতে, এফআরসিতে জনবল নিয়োগের আইনি জটিলতা নিরসনে প্রয়োজনে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিটি করণীয় নির্ধারণ করে দ্রুত সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad