সাঘাটায় ওয়াপদা সড়কে ধস, বন্ধের উপক্রম যান চলাচল

  • মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)
  • আপলোড সময় : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৪ দুপুর
  • ১১৩০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহী
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ী ওয়াপদা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দেওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকমে ছোট যানবাহন চলাচল করলেও প্রতিদিনই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মাঝে মধ্যে ধসে যাওয়া অংশে বালু ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী হচ্ছে না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাঘাটা উপজেলা সদর থেকে জুমারবাড়ী ও সোনাতলা হয়ে বগুড়ার মোকামতলা মহাসড়কে সংযোগ স্থাপনের একমাত্র সড়ক এটি। ডাকবাংলা থেকে জুমারবাড়ী বাজারের প্রবেশপথ পর্যন্ত ওয়াপদা বাঁধের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে ধস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত বালু ব্যবহার, এক পাশে ব্যক্তিগতভাবে চাষাবাদ, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে বাঁধজুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচটি স্থানে বড় আকারের ধস দেখা দিয়েছে। ফলে বড় ও মাঝারি যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয়রা ভ্যান ও অটোরিকশায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। এতে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সংস্কারকাজে অতিরিক্ত বালু ব্যবহারের কারণে ডাকবাংলা পার হয়ে ঘুড়িদহ এলাকা, টেকনিক্যাল কলেজ এলাকা, জুটিয়ারপাড়া, বসন্তেরপাড়াসহ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ধস দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে সাঘাটা ইউনিয়নের বাঁশহাটা উকুনপাগলীর মোড় থেকে জুমারবাড়ী ইউনিয়নের বসন্তেরপাড়া পর্যন্ত বাঁধটি সংস্কার করা হয়। এ কাজে ব্যয় হয় ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাঁধের গোড়া কেটে গভীর করা, বাঁধের বার্ম খোঁড়াখুঁড়ি এবং অতিরিক্ত বালু ব্যবহারের কারণে বর্তমানে সড়কটির এমন বেহাল দশা হয়েছে।
জুমারবাড়ী এলাকার বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, “বাঁধের সড়কটির নির্মাণকাজ দুর্বল হওয়ায় এখন মাঝেমধ্যেই ধসে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে ছোট যানবাহন চলাচলের সময় কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।”
ওই সড়কে চলাচলকারী ঘুড়িদহ এলাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন মিয়া বলেন, “সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির তোড়ে সড়কের বালু ধসে যায়। এতে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, সড়কটি ধসে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এলজিইডির সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হেলালুর রহমান বলেন, সড়ক ধসের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে পরিদর্শন ও মাপজোখ সম্পন্ন হয়েছে। সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।



কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad