স্তন অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু, হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৭ দুপুর
  • ৭১৪৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
বরিশালের গৌরনদীতে রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামে এক যুবতীর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর মৃত্যু হয়েছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়। রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

মৃত লিজা গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের মেয়ে। মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যেই দাফন সম্পন্ন করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লিজা ছোটবেলা থেকেই ছেলেদের মতো চলাফেরা করতেন। তিনি ছেলেদের মতো চুল কাটাতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুরুষ হিসেবে দেখতে চাইতেন বলে পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য। এ কারণে ঢাকায় তিনি হরমোনের চিকিৎসাও নিচ্ছিলেন।

লিজার সঙ্গে জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামে এক যুবতীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। জেনিফা নিয়মিত লিজাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন এবং দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতেন। জেনিফার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একে অপরের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং একসঙ্গে থাকতেন।

জেনিফা জানান, লিজার স্তন অপারেশনের জন্য তার বাবা-মা ও বোন দেড় লাখ টাকা দেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে ‘সরফরাজ’ নামে ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন বলে জানান জেনিফা। তার দাবি, লিজার বাবা-মায়ের সম্মতি নিয়েই তিনি ওই স্বাক্ষর করেছিলেন।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা তার মেয়ের অস্ত্রোপচারের বিষয়ে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করবেন—এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। এমনকি মেয়েকে ‘সরফরাজ’ নামে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেটিও তিনি মৃত্যুর দিন জানতে পারেন বলে জানান।

তিনি বলেন, লিজা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে—এমন কথা তিনি মেয়ের মায়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন। পারিবারিক বিষয়ে তার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হতো না বলেও আক্ষেপ করেন তিনি।

লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার মেয়ে কোনো ছেলেকে পছন্দ করত না। তাকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হলেও কোনো সংসার করেননি। জেনিফা দীর্ঘদিন ধরে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে তাদের বাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। এ কারণে মেয়ের চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের বিষয়টি তারা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

এদিকে হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে মৃতের নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সনদে ৩ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি এবং পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর তথ্য রয়েছে।

মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগের লিমন নামের এক ব্যক্তি এ বিষয়ে জিএমের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

লিজার মৃত্যুর ঘটনায় অস্ত্রোপচারের ধরন, হাসপাতালের ভর্তি ও সম্মতিপত্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহারের বিষয় এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা চিকিৎসকের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad