সোমবার দলের খাস কমিটির বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়। দলের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জমিয়ত নেতারা বলেন, প্রবীণ পিতা-মাতার নিরাপত্তা, চিকিৎসা, ভরণ-পোষণ ও সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করা সন্তানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
তবে মুসলমানদের উত্তরাধিকার, হেবা ও সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর সরাসরি ইসলামী শরিয়াহর বিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তারা বলেন, নতুন কোনো আইন বা আইনের কোনো ধারা যেন কোরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত মিরাস ও হেবার বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
নেতারা আরও বলেন, পিতা-মাতার জীবনকালীন অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর প্রয়োগে মুসলমানদের শরিয়াহসম্মত উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির মালিকানা ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করা যাবে না। বিশেষ করে হেবা ও মিরাসের বিধান পাশ কাটিয়ে এমন কোনো আইনি কাঠামো করা উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে পারিবারিক বিরোধ বা শরিয়াহবিরোধী সম্পত্তি বণ্টনের সুযোগ তৈরি করে।
বিলটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতি, ফকিহ, আলেম ও ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি। প্রয়োজনে একটি বিশেষজ্ঞ শরিয়াহ বোর্ড গঠন করে বিলের প্রতিটি ধারা পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
জমিয়ত নেতারা বলেন, পিতা-মাতার অধিকার ও প্রবীণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য প্রযোজ্য মিরাস, হেবা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। মানবিক ও সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনাও যাতে সুরক্ষিত থাকে, সে অনুযায়ী আইন প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক