নিজের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক হয়রানি ও ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ অংশ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, যে ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে, সেটি বিএনপি সরকারের সময়ের।
নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকারের সময়ে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করার যৌক্তিকতা নেই। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে না থাকলেও কেন তাঁকে অনুসন্ধানের আওতায় আনা হয়েছে।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে পদায়ন ও বদলি-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকে করা সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং কমিশনের মুখপাত্রের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, দুদকের মুখপাত্র প্রথমে ‘প্রাথমিক তদন্ত’ শুরুর কথা বলেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, বক্তব্য থেকে ‘প্রাথমিক’ শব্দটি বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের খবর প্রকাশিত হয়। এতে তাঁর মানহানি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন এবং ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের অভিযোগ, এটি প্রকৃত অর্থে দুর্নীতির অনুসন্ধান নয়; বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া। তাঁর ভাষ্য, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, একই ধরনের প্রক্রিয়া আবারও শুরু হয়েছে।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ঘটনাটি বিএনপি সরকারের সময়ের। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসেরও বেশি সময় আগে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পদত্যাগপত্র দেন এবং ১১ ডিসেম্বর তা গৃহীত হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে হলে তাঁর বিরুদ্ধে নয়, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান হওয়া উচিত। কারণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তিনি নথিপত্র দিয়ে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিএনপি সরকার এসে দুর্নীতি দমন কমিশন-সংক্রান্ত সেই অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। পরে নতুন করে দলীয় পদ্ধতিতে দুদক গঠন করা হয়েছে এবং সেটি রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের মতো যথেষ্ট কারণ ছিল না। সংশ্লিষ্ট পদোন্নতির তারিখসহ নথিপত্র যাচাই করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা।
তিনি আরও বলেন, পুরো ঘটনাটি তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও মিডিয়া উপকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক