উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা শেষে এখন জাগ থেকে পাট তুলে আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
জীবননগর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাটচাষি শিপন বলেন, এবার তিনি তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছেন। প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ মণ করে পাট পাওয়ার আশা করছেন তিনি। এলাকার নদ-নদী ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি থাকায় পাট জাগ দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। বাজারে চাহিদার পাশাপাশি ভালো দাম থাকায় এবার পাট চাষে লাভের আশা করছেন তিনি।
উপজেলার আরেক চাষি জসিম বলেন, তাঁর জমিতে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। নদীতে জাগ দেওয়া পাট অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে বাজারে তুলবেন। এবার পাটের পাশাপাশি পাটখড়িরও ভালো চাহিদা রয়েছে। অনেকে আঁটি প্রতি প্রায় ৬০ টাকা দরে পাটখড়ি বিক্রি করছেন। কেউ কেউ জলাশয়ে জাগ দেওয়া অবস্থায় পাট পরিষ্কার করে পাটখড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। এতে উৎপাদন খরচ কিছুটা কমার পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে।
মণপ্রতি পাট ৩৫০০ থেকে ৩৭০০ টাকাজীবননগরের স্থানীয় বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাটের রং ও মান ভালো হলে দামও বেশি পাওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া পাটখড়িও বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে পাটখড়ির আঁটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে পাটের পাশাপাশি পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন।
১৬২০ হেক্টর জমিতে পাটজীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, এবার উপজেলায় ১ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। মাটির উর্বরতা, সময়মতো বৃষ্টি এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে।
তিনি বলেন, কৃষকদের সঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত যোগাযোগ এবং সাধ্যমতো সহযোগিতার কারণেও পাট চাষে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।
তথ্যসূত্র: জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিস, স্থানীয় বাজারের তথ্য এবং পাটচাষিদের বক্তব্য; প্রতিবেদন—আশিকুর রহমান রাজ, জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা), আমার দেশ, প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স