রিজিক নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

রিজিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দেওয়া সবচেয়ে বড় একটি নিয়ামত। সাধারণত রিজিক সম্পর্কে আমরা ধারণা করি, তা শুধু খাদ্যসামগ্রী আর সম্পদ; তবে সেটি সমীচীন নয়। বরং রিজিক হচ্ছে আমাদের জীবনোপকরণের যাবতীয় সবকিছু।

রিজিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত। এ সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে, ‘পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর। তিনি জানেন তারা কোথায় থাকে এবং কোথায় সমাপিত হয়। সবকিছুই (উল্লেখ) এক সুবিন্যস্ত কিতাবে (লওহে মাহফুজে) রয়েছে।’ (সুরা হুদ : ৬) অপর আয়াতে কারিমায় আল্লাহতায়ালা রিজিক নিয়ে আশ্বস্ত করে বলছেন, ‘আকাশে রয়েছে তোমাদের রিজিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু।’ (সুরা জারিয়াত : ২২)

এখন কথা হচ্ছে, আমরা সাধারণত ধারণা করি যে আমি যদি অমুক কাজটি না করতাম, অমুক ব্যক্তির কাছে ভরসা না করতাম বা অমুক লোকটি আমার জীবনে যদি না থাকত, তাহলে হয়তো আমি চলতে পারতাম না, আমার ভালো থাকায় বাধা-বিঘ্নতা সৃষ্টি হতো অথবা ভালো থাকতে পারতাম না, ভালো-মন্দ খেতে কিংবা পড়তে পারতাম না; এটি নিছক ভুল ধারণা ছাড়া কিছু নয়।

আমরা সামান্য বিষয় নিয়ে হতাশায় ডুবে যাই, ভেঙে পড়ি—এটি নিছকই শয়তানের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষ চেষ্টা করার পরও অনেক সময় রিজিক কমবেশি হয়। এটি আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে স্রেফ পরীক্ষা। মহান রব আমাদের জানান দিচ্ছেন, ‘আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব, কখনো ভয়ভীতি, কখনো অনাহার, কখনো তোমাদের জানমাল ও ফসলাদির ক্ষতির মাধ্যমে। (তবে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করতে হবে) তুমি ধৈর্যশীলদের (জান্নাতের) সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা : ১৫৫)

পার্থিব জীবনে পরিস্থিতি ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে মানুষ রিজিক নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকে। কিন্তু আল্লাহতায়ালা রিজিক নিয়ে চিন্তা-টেনশন না করতে অভয়বাণী শুনিয়েছেন। ইরশাদ হচ্ছে, ‘এবং তিনি তাকে এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যার উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা আত-ত্বালাক : ৩)

আমার-আপনার রিজিক আমাদের কাছে সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায়, সঠিক উৎস থেকে পৌঁছে যাবে আল্লাহতায়ালার নির্দেশ মোতাবেক। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় নিয়ামত কী হতে পারে, যেখানে আমাদের রিজিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা সমস্ত সৃষ্টির ভাগ্যলিপি লিখে রেখেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর আগে, তখন আল্লাহর আরশ ছিল পানির ওপর।’ (মুসলিম : ২৬৫৩)

এবার ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরা যাক। তিনি বলেছেন, ‘যা কিছু তোমার জন্য লিখিত সেটি পাহাড়ের চূড়ায় থাকলেও তোমারই হবে, আর যা কিছু তোমার জন্য লেখা হয়নি সেটি দুই ঠোঁটের মধ্যখানে থাকলেও তোমার হবে না।’ তাই রিজিক নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই।

সুতরাং আসুন, রিজিক নিয়ে চিন্তিত না হই এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ভরসা করি রবের ওপর; যিনি আমাদের রাজ্জাক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন, আমিন।

লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad