প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশের নতুন রূপকল্প ও গত ১৫ বছরের শাসনামলের বিভিন্ন বিষয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার কথা রয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেনজাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুতে দীর্ঘতর যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরিকল্পনা থাকলেও পরে সফরটি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো সফরসঙ্গী থাকতে পারেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠক, বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
রোহিঙ্গা ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্বজাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আয়োজন করবে। এ ছাড়া উন্নয়ন, মহামারি প্রতিরোধ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও পরমাণু নিরস্ত্রীকরণসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আয়োজিত কর্মসূচিতেও প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এর আগে জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন। বিশ্বশান্তি, টেকসই সমাধান, সংঘাত নিরসন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং জলবায়ু নিরাপত্তা ও অর্থায়নের বিষয়ও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেতে পারে।
বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিঅধিবেশনের সাইডলাইনে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য বৈঠকের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ আল-খালিদ আল-সাবাহ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক, শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এসব কর্মসূচিতে শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন হতে পারে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধিবেশনের সভাপতি
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের ভোটে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ফলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন, তখন অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সফরসূচিতে কাটছাঁটজাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো সফরের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে। নিউইয়র্কে গণসংবর্ধনার একটি কর্মসূচিও বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য, বাংলাদেশ জাতিসংঘ মিশন, বাসস এবং ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন।

প্রথম দর্পণ,জাতীয় ডেস্ক