চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কটি লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও নোয়াখালীর সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যান চলাচল করে। বিশেষ করে লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনে যাতায়াতের জন্য অনেকে সময় ও দূরত্ব কমাতে সড়কটি ব্যবহার করেন।
সরেজমিনে বেহাল দশা
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। কোথাও কোথাও সড়কের দুই পাশের অংশও ভেঙে গেছে। বড় গর্তগুলো চিহ্নিত করতে স্থানীয়রা লাল কাপড় দিয়ে নিশানা দিয়েছেন।
পূর্ব চান্দিশকরা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এসব স্থানে যানবাহন চলাচলের সময় পানির ছিটা পথচারী ও শিক্ষার্থীদের শরীরে গিয়ে পড়ছে। ফলে স্কুল-মাদরাসার শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত সোমবার কয়েকটি পণ্যবাহী পিকআপ ভ্যান ও কাভার্ডভ্যান গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা এখন প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে। কখনো কখনো যানবাহন বিকল হয়ে সড়কে চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসাইন বলেন, চৌদ্দগ্রাম-লাকসাম সড়কটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। নাঙ্গলকোট ও লাকসাম হয়ে নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে এটি ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সড়কের অবস্থা এতটাই খারাপ যে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
তিনি বলেন, সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে সেগুলো পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়। অপরিচিত চালকদের পক্ষে দূর থেকে এসব গর্তের গভীরতা বোঝা সম্ভব হয় না। ফলে প্রায়ই যানবাহন গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে।
ট্রাকচালক আলকাছ মিয়া বলেন, ফেনী থেকে মুদি মালামাল নিয়ে প্রায়ই এ সড়ক দিয়ে লাকসামে যেতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
কাভার্ডভ্যানচালক মো. মোস্তফা বলেন, লাকসাম ও নোয়াখালী যেতে এ সড়ক ব্যবহার করলে দূরত্ব কমে। এতে সময় ও জ্বালানি খরচও বাঁচে। কিন্তু সড়কের বর্তমান অবস্থায় যানবাহন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, “আমি লোক পাঠিয়ে দ্রুত এ সড়ক মেরামতের ব্যবস্থা করব।”
তথ্যসূত্র: স্থানীয় বাসিন্দা, যানবাহনের চালক, সরেজমিন তথ্য এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কুমিল্লা অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)