ভোগডাঙ্গার মেসার্স এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমানের ডিলার পয়েন্টে সার বিতরণের খবর পেয়ে সকালেই চারশ থেকে পাঁচশ কৃষক জড়ো হন। বিতরণে দেরি হওয়ায় একপর্যায়ে উত্তেজিত কৃষকেরা ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে কিছু সময় দূরপাল্লার যান চলাচল বন্ধ থাকে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং সার বিতরণ শুরু করা হয়।
এদিকে সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের মেসার্স অলিল মোল্লা ডিলার পয়েন্টেও কয়েকশ কৃষক সার নেওয়ার জন্য জড়ো হন। সার দিতে দেরি হওয়ায় উত্তেজিত কৃষকেরা ডিলারের ম্যানেজার শাহনুরকে মারধর করে ধাওয়া দেন। পরে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ সময় একজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকেরা। পরে কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
কৃষকদের অভিযোগকৃষকদের ভাষ্য, আমন ধানে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার না দিলে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সকাল থেকেই তাঁরা সার নেওয়ার জন্য ডিলার পয়েন্টে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু সার না পেয়ে অনেকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা রাতের আঁধারে সার কালোবাজারিদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
ঘোগাদহ ইউনিয়নের কৃষক রাজা মিয়া বলেন, সারের জন্য সকাল থেকেই ডিলার পয়েন্টে কয়েকশ কৃষক অবস্থান করছিলেন। সার দিতে দেরি হওয়ায় উত্তেজিত কৃষকেরা ম্যানেজার শাহনুরকে মারধর ও ধাওয়া করেন।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যকুড়িগ্রাম সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নাহিদা আফরিন বলেন, ভোগডাঙ্গার ডিলার পয়েন্টে ২০০ বস্তা সার ছিল। সেখানে চারশ থেকে পাঁচশ মানুষ জড়ো হওয়ায় জটলা তৈরি হয়। ভিড়ের কারণে সার বিতরণে দেরি হওয়ায় লোকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ঘোগাদহ ইউনিয়নেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক