শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নাটোরের বড়াইগ্রামে শিক্ষার মানোন্নয়ন সভায় পরিবেশিত খাবার খেয়ে শতাধিক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। শনিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত সভায় খাবার খাওয়ার পর তাঁদের অনেকে বমি, পেটব্যথা ও পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত হন।

অসুস্থ শিক্ষকদের বিভিন্ন ক্লিনিক, বেসরকারি হাসপাতাল ও স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। একই খাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়ানোর পর তাঁদের অনেকেও অসুস্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাংবাদিকও ওই খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ ১০ জন, চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ আটজন, কারবালা দাখিল মাদরাসার ১১ জন, মৌখাড়া ইসলামিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আটজন এবং মনপিরীত দাখিল মাদরাসার তিনজন শিক্ষক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া মাড়িয়া দাখিল মাদরাসা, গড়মাটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রামাগাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়, কুরশাইট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গারফা মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার দুজন করে শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আক্রান্ত শিক্ষকের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ

শিক্ষকেরা জানান, সভা আয়োজনের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়া হয়। এতে উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অংশ নেন। সভায় তাঁদের সাদা ভাত, মুরগির মাংস, ডাল ও ডিমসহ প্যাকেটজাত খাবার দেওয়া হয়।

খাবার সরবরাহের দায়িত্বে ছিল বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। শিক্ষকদের অভিযোগ, খাবারের মান যথাযথ ছিল না। খাবার খাওয়ার পরই অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আগ্রান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, ওই খাবার খেয়ে তাঁদের বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। কয়েকজন শিক্ষক খাবার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়ানোর পর তাঁরাও অসুস্থ হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এটি শিক্ষকদের নিজস্ব আয়োজন ছিল। কোথা থেকে এবং কীভাবে খাবার সরবরাহ করা হয়েছে, তা আয়োজকেরাই বলতে পারবেন।

বনফুল হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক মিন্টু মিয়া বলেন, কী কারণে এমন হয়েছে, তা তিনি বলতে পারবেন না। তাঁর দাবি, খাবার খেয়ে অসুস্থ হলে সবাই অসুস্থ হওয়ার কথা।

বড়াইগ্রামের ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, হোটেলের খাবারের মান খারাপ হওয়ার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। হোটেলের পরিবেশ ও খাবারের মান খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ত্রুটি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad