বিথী আক্তার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে উপজেলার জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করছেন।
অপারেশনের পর একের পর এক জটিলতাপরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন হয়। ওই সময় চিকিৎসকদের অবহেলায় তার পেটের ভেতরে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছেন।
বিথী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, অপারেশনের সময় তার পেটের ভেতরে গজ (মব) রেখে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি থেকে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর তাকে আবার বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করাতে হয়। এ সময় তাকে আইসিইউতেও থাকতে হয়। পেটের নাড়ী পচে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে বাইপাস সার্জারি করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। পরে আরও একবার অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাকে।
নবজাতককে কোলে নিতে পারছেন নাপরিবারের দাবি, গত চার মাস ধরে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বিথী। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন।
বিথী জানান, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নিতে কিংবা বুকের দুধ খাওয়াতে পারছেন না। অসুস্থতার মধ্যে সন্তানকে কাছে না পাওয়ার কষ্টের কথাও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অসুস্থতার কারণে তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৯ কেজিতে নেমেছে। এর পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতাও দেখা দিয়েছে বলে জানান তিনি।
তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবিপরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই বিথীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি ও উপযুক্ত শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিথী আক্তারের দাবি, ঘটনার স্বপক্ষে তার কাছে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট রয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে চিকিৎসায় অবহেলা বা পেটের ভেতরে গজ থাকার অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক