কিশমিশে আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও বি ভিটামিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও প্রয়োজনীয়। তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা হিসেবে কিশমিশ ভেজানো পানির ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে
কিশমিশ ভেজানো পানি শরীরের পর্যাপ্ত পানি গ্রহণে সহায়তা করতে পারে। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়া কমাতেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে এটি উপকারী হতে পারে।
চুলের ফলিকল শক্ত রাখতে
কিশমিশে থাকা আয়রনসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে। নিয়মিত ও পরিমিত কিশমিশ খাওয়া বা ভেজানো পানি পান খাদ্যতালিকায় পুষ্টি যোগ করতে পারে। তবে হরমোনজনিত চুল পড়া বা অতিরিক্ত চুল ঝরার ক্ষেত্রে শুধু কিশমিশের পানির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ কমাতে
বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। এর ফলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যাওয়া, জেল্লা হারানো ও বিভিন্ন দাগের মতো পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ত্বকের বার্ধক্য পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখার প্রমাণ হিসেবে এটিকে দেখা উচিত নয়।
হরমোনের পরিবর্তনে ত্বকের সমস্যা
ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায় কিংবা মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের প্রভাবে ত্বকে ব্রণ, লালচে ভাব বা প্রদাহ দেখা দিতে পারে। কিশমিশে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে সামগ্রিক পুষ্টিতে ভূমিকা রাখলেও এসব হরমোনজনিত সমস্যা নিয়ন্ত্রণের নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে কিশমিশ ভেজানো পানিকে বিবেচনা করা যায় না।
সব মিলিয়ে, পরিমিত কিশমিশ স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে ত্বক বা চুলের নির্দিষ্ট সমস্যা থাকলে কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: যুগান্তর, লাইফস্টাইল ডেস্ক; প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক