শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার আদালতে হাজির করার সময় প্রিজনভ্যান থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। একই মামলায় শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
‘নির্যাতন দিয়ে সংগ্রাম থামানো যাবে না’আদালতে নেওয়ার আগে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নির্যাতন দিয়ে আমাদের সংগ্রাম থামানো যাবে না। আমরা বাংলাদেশের জনগণের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থের জন্য লড়ে যাব। আজীবন লড়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালনা এবং মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে সংগ্রামে নামতে হবে। জামায়াতে ইসলামী সেই সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হেলমেট পরানো নিয়ে আপত্তিআদালত এলাকায় আনার পর পুলিশ সদস্যরা তার হাতে হাতকড়া পরান এবং মাথায় হেলমেট পরানোর চেষ্টা করেন। এতে আপত্তি জানান আখতারুজ্জামান। পরে হেলমেট ছুড়ে ফেলে দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেন হেলমেট পরব? সরকারের অবৈধ আদেশ মানি না।’
পরে হেলমেট ছাড়াই তাকে আদালতের এজলাসে নেওয়া হয়। এ সময় তিনি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন।
আদালতে সাংবাদিক প্রবেশে বাধার অভিযোগআখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানির সময় আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তার আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক।
তিনি বলেন, সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আদালত এবং আদালতের বারান্দায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। কেন এমন বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না বলেও মন্তব্য করেন আইনজীবী।
আখতারুজ্জামানের আইনজীবী আরও বলেন, শুনানিতে তার মক্কেল বক্তব্য দিয়েছেন এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত থাকলে ভালো হতো। মামলাটি রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশহযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম এ আবেদন করেন। পুলিশের আবেদনে বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে বাধা, হুমকি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার অভিযোগ তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তার দাবি, আদালতে আখতারুজ্জামানকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি এবং পুলিশ, সাংবাদিক ও আদালতে উপস্থিত ব্যক্তিদের বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের পরিবর্তে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বিমানবন্দরের ঘটনায় মামলামামলার এজাহার ও পুলিশি আবেদনের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের মদিনা থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের লাগেজ নেওয়ার সময় বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। এ নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি দেখতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক সেখানে যান।
পুলিশের অভিযোগ, এ সময় আখতারুজ্জামান তার সঙ্গে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং হুমকি দেন। দায়িত্ব পালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও মামলায় রয়েছে। এ ছাড়া যাত্রীদের জমজমের পানির বোতর বা পাত্র ট্রলি থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওমরা পালন শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে ভোগান্তি ও হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আখতারুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এর আগে শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টসংলগ্ন এলাকায় নিজ বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাকে বিমানবন্দর থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক