তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের সম্পদের সঠিক সীমানা ও পরিমাণ চিহ্নিত করতে উপজেলা প্রশাসন এবং ভূমি অফিসের সহযোগিতা নেওয়া হবে।
কাগজে ৮.১১ একর, দখলে ৬ একরের কমকলেজের ২০২৬ সালের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ দশমিক ১১ একর। তবে বাস্তবে কলেজের দখলে ছয় একরের বেশি জমি নেই বলে জানা গেছে। এ ছাড়া কলেজের কয়েকটি আরএস খতিয়ানও পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এমপি আবুল কালাম কলেজের একটি ক্যান্টিন বেদখল অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি ক্যান্টিনটি উদ্ধারের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে কলেজের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন।
এর পর কলেজ প্রশাসন নিজেদের জমির কাগজপত্র ও তথ্য-উপাত্ত খুঁজতে তৎপর হয়। তবে জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে জটিলতার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিএস-আরএস নথি যাচাইয়ের দাবিস্থানীয়দের মতে, কলেজের প্রকৃত সম্পদ নির্ধারণে পুরোনো সিএস নকশা, আরএস খতিয়ান ও সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড যাচাই করা জরুরি। এসব নথির ভিত্তিতে কলেজের জমি চিহ্নিত করে বেদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সময়মতো জমি চিহ্নিত ও সীমানা নির্ধারণ না করায় কলেজের সম্পদ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
‘ভূমিদস্যুই তাদের বড় পরিচয়’কলেজের জমি দখলের ঘটনায় বিএনপির কেউ জড়িত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এমপি আবুল কালাম বলেন, ‘এরা ভূমিদস্যু, এটাই বড় পরিচয়। বিএনপির কেউ এটা করতে পারে না। বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কেউ এ ধরনের অপকর্মে জড়ালে দল থেকে বহিষ্কারসহ তাদের আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। এমপি হিসেবে এসব অপকর্মের দায় আমি নেব না।’
প্রশাসনের বক্তব্যলাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাদের কোনো নির্দেশনা দেননি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জায়গার জন্য প্রয়োজনে সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) চিঠি দেবে। আমরা নওয়াব ফয়জুন্নেছা জাদুঘর নিয়ে কাজ করছি।’
তবে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মনির আহমেদ বলেন, ‘এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা আমরা পেয়েছি। আমার কলেজের সমুদয় জায়গা চিহ্নিতকরণে উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি অফিসের সহযোগিতা নেব।’
কলেজের শিক্ষার্থী দিদার হোসেন বলেন, ‘জায়গাগুলো অনেক আগেই চিহ্নিত করা দরকার ছিল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’
কলেজের জমির প্রকৃত পরিমাণ, মালিকানা ও বর্তমান দখল পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং সরেজমিনে সীমানা নির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক