দেশি ও ব্রয়লার—কোন মুরগির ডিম বেশি পুষ্টিকর?

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ দুপুর
  • ১৯৯৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
ডিম পুষ্টিকর ও সহজলভ্য খাবার হিসেবে প্রায় সবার খাদ্যতালিকাতেই রয়েছে। তবে দেশি বা উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগির ডিম এবং খামারে পালিত মুরগির ডিমের মধ্যে পুষ্টিগুণের দিক থেকে বড় কোনো পার্থক্য আছে কি না—এ নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে।

পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক ডা. অরুণ কুমারের মতে, দুই ধরনের ডিমেই প্রায় সমপরিমাণ প্রোটিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান থাকে। ফলে শুধু প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম খেলে দেশি বা ফ্রি-রেঞ্জ ডিমের জন্য অতিরিক্ত অর্থ খরচ করার প্রয়োজন নেই।

কুসুমের রঙে কেন পার্থক্য?

উন্মুক্ত পরিবেশে পালিত মুরগি সাধারণত ঘাস, পোকামাকড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়। এ কারণে এসব মুরগির ডিমে ক্যারোটিনয়েডের পরিমাণ কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ফলে কুসুম তুলনামূলক গাঢ় হলুদ বা কমলা দেখায়।

অন্যদিকে, খামারে পালিত মুরগিকে সাধারণত পোল্ট্রি ফিড দেওয়া হয়। তাদের ডিমের কুসুমের রং তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে কুসুমের রং গাঢ় হলেই যে ডিমে বেশি প্রোটিন বা সামগ্রিকভাবে অনেক বেশি পুষ্টি রয়েছে—এমনটা নয়।

প্রাকৃতিক খাদ্য গ্রহণের কারণে ফ্রি-রেঞ্জ মুরগির ডিমে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণও কিছুটা বেশি থাকতে পারে। তবে এই পার্থক্য সীমিত। সামগ্রিক পুষ্টিমান বিবেচনায় দুই ধরনের ডিমের মধ্যে বড় কোনো তফাত নেই।

ব্রয়লার ডিম খেলে ক্ষতি আছে?

ডা. অরুণ কুমারের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি মূলত প্রোটিনের জন্য ডিম খান, তাহলে খামারে পালিত মুরগির ডিম খাওয়ায় ক্ষতির কারণ নেই। শুধু ফ্রি-রেঞ্জ ডিম পাওয়ার জন্য দুই থেকে তিন গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করাও জরুরি নয়।

মুরগিকে হরমোন দেওয়া হয়—এটি কি সত্য?

মুরগিকে দ্রুত বড় করতে হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হয়—এমন ধারণা দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। তবে ডা. অরুণ কুমার এটিকে ভুল ধারণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তার মতে, হরমোন ব্যবহার করে মুরগি পালন করা বাস্তবসম্মত নয় এবং এর ব্যয়ও অত্যন্ত বেশি। মুরগির রোগ প্রতিরোধে খামারে বিভিন্ন ধরনের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়। অনেক সময় এসব টিকাকেই ভুল করে হরমোন ইনজেকশন মনে করা হয়।

ডিম খেলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি আগে হয়?

ডিম বা মুরগির মাংস খাওয়ার কারণে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি আগেই শুরু হয়—এমন ধারণারও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন ডা. অরুণ কুমার।

তিনি বলেন, গত এক শতকে এমন পরিবারেও মেয়েদের বয়ঃসন্ধির গড় বয়স কমেছে, যেসব পরিবার সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী। তাই মুরগির মাংস বা ডিম খাওয়ার সঙ্গে মেয়েদের অকাল বয়ঃসন্ধির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

সব মিলিয়ে, ডিমের পুষ্টিগুণ বিবেচনায় দেশি ও খামারে পালিত মুরগির ডিমের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য খুব বেশি নয়। খাদ্যাভ্যাস, ব্যক্তিগত পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো ধরনের ডিম বেছে নেওয়া যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা; ডা. অরুণ কুমার, পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad