রোববার কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, তাঁর সন্তান কীভাবে হত্যার শিকার হবে, তা কখনো কল্পনাতেও ছিল না। সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল পথেঘাটে কোনো দুর্ঘটনা। কিন্তু এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হবে, তা ভাবেননি তারা।
তিনি বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত এবং তদন্তে যাদের নাম এসেছে, চার্জশিটে তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চান তিনি। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে বলেও জানান।
‘অপ্রতিম শুধু আমাদের সন্তান নয়, কুমিল্লারও সন্তান’অপ্রতিমকে কুমিল্লার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তার বাবা বলেন, কুমিল্লাতেই তার ছেলে হাঁটতে শিখেছে। কুমিল্লার মানুষের হাত ধরে বড় হয়েছে এবং এ এলাকার ভাষায় কথা বলেছে। তাই অপ্রতিমকে হারানো শুধু তাদের পরিবারের ক্ষতি নয়, কুমিল্লারও একটি সন্তান হারানোর ঘটনা।
তিনি বলেন, কুমিল্লার মানুষেরও প্রত্যাশা অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার হোক। বর্তমানে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, তা দেখে ভালো লাগছে। তবে সন্তানের হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের ফাঁসি হলে আরও বেশি ভালো লাগবে।
আসামিদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবিশিশু আইনের আওতায় গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো আসামিদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবিও জানিয়েছেন কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, শিশু আইনের অনেক বিষয় সম্পর্কে তিনি জানেন না। তবে যাদের শিশু আইনের আওতায় গাজীপুরে পাঠানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স বায়োলজিক্যাল বা রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিমউল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। পরদিন লালমাই পাহাড়ের বিজয়পুর এলাকার সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক